প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:০৮ পিএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:২৪ পিএম
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত আহমদ রফিক রচনাবলী (প্রথম খণ্ড) লেখকের হাতে তুলে দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।
বিশিষ্ট সাহিত্যিক, রবীন্দ্র-গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক চুরান্নবই বছরে পদার্পণ করে তার যে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই অব্যাহত রেখেছেন, তাতে বিস্ময় জাগে বলে মন্তব্য করেছেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিকরা।
তারা বলেছেন, ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত রাজপথ থেকে দেশমাতৃকার জন্য যে সংগ্রাম তিনি শুরু করেছিলেন, তার সেই সংগ্রাম আজও অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার সকালে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে আহমদ রফিকের ৯৩তম জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে এক অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।
‘আহমদ রফিক : সমকালে ও উত্তরকালে’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক খান মাহবুব।
আলোচনা অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন কে এম খালিদ এবং কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, ‘আহমদ রফিক মহান ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত রাজপথ থেকে সংগ্রাম করে চলেছেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতির জন্য এবং একটি মানবিক পৃথিবীর জন্য তার এই সংগ্রাম এখনও চলছে। শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও তিনি তার বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। জীবদ্দশায় বাংলা একাডেমি তার রচনাবলি প্রকাশ কার্যক্রম শুরু করতে পেরে ধন্য।’
খান মাহবুব বলেন, আহমদ রফিক বাংলার এক বহুমাত্রিক মনীষা। ভাষা আন্দোলনের বীর যোদ্ধা আহমদ রফিক একই সঙ্গে ভাষা আন্দোলনের প্রামাণ্য ইতিহাসকারও বটে। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলজুড়ে রবীন্দ্র-গবেষণার পথিকৃৎ। আহমদ রফিক বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট কবি, পাশাপাশি তিনি এদেশের কবিতার নিষ্ঠাবান সমালোচক এবং গবেষকও বটে।
প্রাবন্ধিক বলেন, ‘আহমদ রফিকের আগ্রহের এলাকা বহুধা-বিস্তৃত। তিনি দেশভাগের ভিন্নতর ইতিহাস যেমন অনুসন্ধান করে আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন তেমনি চে গুয়েভারা, বিদ্যাসাগর, নজরুল, জীবনানন্দসহ আমাদের তরুণতর লেখকদের রচনা নিয়েও সমানভাবে বিশ্লেষণধর্মী রচনা উপহার দিয়ে চলেছেন। শতবর্ষের সীমানায় দাঁড়িয়ে একজন আহমদ রফিক আমাদের বিস্ময়।’
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, ‘আহমদ রফিক আমাদের চিন্তা ও মননকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার সাহিত্যকর্ম, সম্পাদনা এবং সাংগঠনিক তৎপরতা এদেশে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক বলয় নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’
কেএম খালিদ বলেন, ভাষাসংগ্রামী রবীন্দ্র-গবেষক আহমদ রফিক আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ। তিনি সারাজীবন মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। প্রায় শতবর্ষে উপনীত হয়ে এখনও তিনি আমাদের বিচিত্রধর্মী সাহিত্যকর্ম উপহার দিয়ে চলেছেন।’
এর আগে সকাল ১০টায় আহমদ রফিকের ইস্কাটনের বাসায় যান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক। তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পর বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত আহমদ রফিক রচনাবলী (প্রথম খণ্ড) লেখকের হাতে তুলে দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। এ সময় বাংলা একাডেমির পরিচালক মোবারক হোসেন এবং নূরুন্নাহার খানম উপস্থিত ছিলেন।
প্রবা/জিজি/এমজে