প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৩ ০১:০৪ এএম
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সংগৃহীত ফটো
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) রাত ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিভিন্ন সময়ে দেশের বাইরে গেলেও চিকিৎসার জন্য কখনো বিদেশ যেতে রাজি হননি এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। অন্তিম ইচ্ছা ছিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা নিয়েই জীবনের শেষ সময়টুকু পাড়ি দেওয়ার।
করোনাকালে অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন দেশের স্বাস্থ্যখাতের এই দিশারী। সাফ কথা ছিল, গণস্বাস্থ্যের বাইরে কোনো চিকিৎসা নেবেন না, দেশের বাইরেও যাবেন না। এ দফায়ও তার উন্নত চিকিৎসা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ওই অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গণমাধ্যম উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।
গণমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আমৃত্যু কাজ করে গেছেন দেশের স্বাস্থ্য খাতের এই দিশারী। ১৯৮২ সালে প্রবর্তিত বাংলাদেশের ‘জাতীয় ঔষধ নীতি’ ঘোষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
বিলেতের রয়্যাল কলেজ অব সার্জন্সে এফআরসিএস পড়াকালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে চূড়ান্ত পর্ব শেষ না করেই স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। রণাঙ্গনে ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে বহু আহত মুক্তিযোদ্ধার জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে নিয়োজিত করেন নিজেকে। স্বাধীনতার পর মনোনিবেশ করেন এদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে। জনকল্যাণধর্মী চিকিৎসানীতির মাধ্যমে দেশে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তুলে কম খরচে গরিব মানুষের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেন দেশপ্রেমিক এই মানুষটি।
ফিলিপাইন থেকে রামন ম্যাগসাইসাই, সুইডেন থেকে বিকল্প নোবেল হিসেবে পরিচিত রাইট লাভলিহুড, যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টারন্যাশনাল হেলথ হিরোর মতো বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন বরেণ্য এই জনস্বাস্থ্য চিন্তাবিদ। তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এসব স্বীকৃতি তাকে কখনো বিদেশমুখী করতে পারেনি, এমনকি চিকিৎসার জন্যও নয়।