প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৯:৫১ পিএম
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ২০:৩০ পিএম
দেশে বর্তমান লক্ষাধিক অভ্যন্তরীণ নৌযান চলাচল করলেও প্রায় ৮৫ শতাংশের লাইসেন্স নেই। এসব নৌযানের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় এসেছে মাত্র ১৫ হাজার ৮৫০টি। এর ফলে নিরাপত্তা যেমন জোরদার করা যাচ্ছে না, তেমনি সরকারও রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. নিজামুল হক। মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।
কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য শাজাহান খান, রনজিত কুমার রায়, ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, মো. আছলাম হোসেন সওদাগর ও এসএম শাহজাদা অংশ নেন।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ’দেশে ১ লাখের বেশি ইনল্যান্ড ভেসেল (অভ্যন্তরীণ নৌযান) চললেও মাত্র ১৫ হাজার ৮৫০টি রেজিস্ট্রেশনের আওতায় এসেছে। সব নৌযান রেজিস্ট্রেশনভুক্ত না থাকায় আইন প্রয়োগে সমস্যা হচ্ছে। এসব নৌযান রেজিস্ট্রেশনভুক্ত করা গেলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।’ রেজিস্ট্রেশনবিহীন নৌযানগুলো রেজিস্ট্রেশনভুক্ত করার প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া বৈঠকে বিশ্বব্যাপী সি ফেয়ারারের (নাবিক) ব্যাপক চাহিদা থাকায় বিশেষ প্রোগ্রাম নিয়ে এর সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে এসএসসি/এইচএসসি পাস করার পরে আর্থিক সংকটসহ নানাবিধ কারণে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে না পারা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে নৌ সেক্টরে চাকরি পাওয়ার যোগ্য করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
জানা যায়, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে নৌপরিবহন যোগাযোগব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন হওয়ার ফলে নৌ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান প্রকল্পগুলো পুনঃসমীক্ষা করার সুপারিশ করে কমিটি।
বৈঠকে নৌরুট সচল রাখার পাশাপাশি কৃষি সহায়ক ভূমিকাতে নদীখননকে গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে যেসব ওয়াকওয়ে নির্মিত হয়েছে, সেগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়।