বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:৫৯ পিএম
আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৩৩ এএম
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। প্রবা ফটো
শ্রম অধিদপ্তর ঘোষিত নৌযান শ্রমিকদের ৬০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির কার্যকারিতা স্থগিত করে নতুন মজুরি কাঠামা নির্ধারণসহ চারটি দাবি জানিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থা। এ ছাড়া রাজধানীর জিপিও মোড় থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তা হকার ও যানজট মুক্ত রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।
শনিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে
ঢাকার সদরঘাটে সংস্থাটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত
বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমদ
বীর বিক্রম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের মজুরি কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে শ্রম অধিদপ্তরের আহ্বানে লঞ্চ ব্যবসার মন্দা অবস্থার কথা বিবেচনা করে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বরাবর একটি মজুরি কাঠামোর প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়েছিল। এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর, চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি ও ৯ ফেব্রুয়ারি শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। তবে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় কর্তৃক মজুরি স্কেল পুনঃনির্ধারণ প্রস্তাবনা কমিটির চতুর্থ সভার সিদ্ধান্তকে পাস কাটিয়ে ৬০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সর্বশেষ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মহোদয় বরারব আরও একটি আবেদন করা হয়। আবেদনে ৬০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করে আলোচনা সাপেক্ষে একটি গ্রহণযোগ্য মজুরি কাঠামো নির্ধারণের অনুরোধ করা হয়।’
মাহবুব উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অনুরোধ করা হলেও শ্রম মন্ত্রণালয় ও শ্রম অধিদপ্তর এসব প্রস্তাবনা ও সমস্যাগুলো আমলে না নিয়ে এবং বেতন-ভাতা প্রদানে মালিকদের সক্ষমতা যাচাই না করে একতরফাভাবে ৬০ শতাংশ মজুরি বাড়িয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এটি বর্তমান লঞ্চ ব্যবসার বাস্তবতার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সদ্য ঘোষিত মজুরি কাঠামো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক অগ্রহণযোগ্য।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে
চারটি দাবিও উত্থাপন করেন লঞ্চ মালিকেরা। এগুলো হলো-
১. শ্রম অধিদপ্তর কর্তৃক
গত ৩০ মার্চ প্রকাশিত গেজেটে নৌযান শ্রমিকদের জন্য ৬০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির কার্যকারীতা
স্থগিত করে এই মজুরি প্রদানের সক্ষমতা মালিকদের আছে কি না- তা যাচাই বাছাই করার জন্য
একটি কমিটি গঠন ও লক্ষের শ্রেণী বিন্যাস করে মজুরী কাঠামো নির্ধারণ করা।
২. যাত্রী সাধারণের
যাতায়াতের সুবিধার্থে জিপিও মোড় হতে সদরঘাট টার্মিনাল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ হকার
ও যানজটমুক্ত রাখার স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৩. দেশের দক্ষিণাঞ্চলের
যাত্রীদের ঢাকা নদীবন্দরে যাতায়াতের সুবিধার্থে গুলিস্তান হতে সদরঘাট পর্যন্ত একটি
ফ্লাইওভার বা উড়াল সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সেতুর একটি শাখা সদরঘাট হতে
বাবুবাজার দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু ও আরেকটি শাখা পোস্তগোলা শ্মশাঘাট পর্যন্ত বর্ধিত
করা।
৪. লঞ্চ মালিকরা জ্বালানি
তেল ব্যবহার করে নিজস্ব জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এসি চালানোয় লঞ্চের
কেবিনে ব্যবহৃত এসির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা।
এর আগে ২০১৬ সালে নৌযান শ্রমিকদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি মজুরি কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবে পাঁচ বছর না যেতেই শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধি ও খাদ্যভাতার জন্য আন্দোলন ও লঞ্চ ধর্মঘট করলে ২০২০ সালে জনপ্রতি মাসিক এক হাজার টাকা খাদ্যভাতা নির্ধারণ করা হয়। পরে করোনা মহামারির কারণে মজুরি কাঠামো করা সম্ভব হয়নি। শ্রমিকরা পুনরায় মহার্ঘ্য ভাতার জন্য আন্দোলন শুরু করলে ২০২২ সালে ১ হাজার ২০০ টাকা মহার্ঘ্য ভাতা নির্ধারণ করা হয়।