প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:২৯ এএম
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:৫৯ এএম
বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্র। ছবি : সংগৃহীত
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় গ্যাসক্ষেত্রের পরিত্যক্ত একটি কূপ নতুন করে খনন শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। নতুন কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করছে বাপেক্স।
গতকাল শনিবার দুপুরে এই পুনঃখননকাজ উদ্বোধন করেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী। তার সঙ্গে ছিলেন সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান। একই সঙ্গে গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রের ৭ নম্বর কূপ পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে।
১৯৯১ সালে বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রের ১ নম্বর কূপ থেকে প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। টানা প্রায় ২৩ বছর উত্তোলন করার পর ২০১৪ সালে বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালে ফের উত্তোলন শুরু হলেও কয়েক মাস পর আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই এ কূপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
পুনঃখননকাজ উদ্বোধন শেষে মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু দিনের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে। এরপরই উৎপাদনে যাওয়া যাবে বলে আশা করছি। এখান থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা রয়েছে। তবে খনন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা না।’
ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) দাম প্রতি মাসেই ওঠানামা করছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটবার এলপিজির দাম বেড়েছে। চলতি মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৬ টাকা বাড়িয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে ওই পরিমাণ গ্যাসের একটি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহককে এখন গুনতে হবে ১২৩৫ টাকা, যা আগে ১২১৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। বিইআরসির ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ৬ সেপ্টেম্বর নতুন দামের ঘোষণা দেন বিইআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আ ব ম ফারুক। তিনি বলেন, নতুন এই দাম বুধবার থেকে কার্যকর হয়। এর আগের মাসে ১২ কেজিতে ৩৫ টাকা দাম কমেছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এই দাম নির্ধারণ করা হয় বলে তিনি জানান।
সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে কমিশন নিয়মিত বাজার তদারক করছে জানিয়ে ফারুক বলেন, ভোক্তারা সহনীয় দামে এলপিজি পাচ্ছেন বলেই কমিশন মনে করে। আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের বিনিময় হার ১০৪ টাকা ধরে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম কমার পরও দেশে কমানো যায়নি ডলারের বিনিময় হারের কারণে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত বিনিময় হার ৯৫ টাকা ধরে হিসাব করা হলে দেশে দাম কমত। কিন্তু ১৬টি কোম্পানির ইনভয়েস ও ঋণপত্রের কাগজে বিভিন্ন রকম বিনিময় হার পাওয়া গেছে। সবগুলোর গড় মূল্য ধরে এবারের মূল্য হিসাব করা হয়েছে।
বিইআরসি জানায়, সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত থাকবে। বেসরকারি খাতে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজির নতুন দাম ১০২ টাকা ৮৮ পয়সা। এ হিসাবে বিভিন্ন পরিমাণের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। এ ছাড়া গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিলিটার ৫৭ টাকা ৫৫ পয়সা, যা আগে ছিল ৫৬ টাকা ৮৫ পয়সা।
গত বছরের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। এরপর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।
২০২০ সালে কোডিডের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগব্যবস্থা, এমনকি বেশির ভাগ কারখানাও বন্ধ থাকায় গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে যায়। পরে ধীরে ধীরে দাম বাড়লেও এ বছরের শুরুর দিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় তেল-গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। গরিব ও উন্নয়নশীল বহু দেশ ব্যাপক সংকটে পড়ে। শ্রীলঙ্কার মতো উন্নয়নশীল দেশ দেউলিয়া হয়ে যায়। আরও ডজনখানেক দেশ দেউলিয়া হওয়ার পথে। খাদের কিনারে গিয়ে দাঁড়ায় পাকিস্তানসহ বেশ কিছু দেশ।
পশ্চিমারা রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বিশ্বব্যাপী আর্থিক লেনদেন জটিলতার মুখে পড়ে। এতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে। নিষেধাজ্ঞার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাশিয়াও বিভিন্ন ব্যবস্থা নিলে জটিলতা আরও বাড়ে। গত জুনে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমাগত বাড়তে থাকে তেলের দাম। ব্যারেলপ্রতি দাম ১২০ ডলার হয়ে গেলে উদ্বেগে পড়ে সব উন্নয়নশীল দেশ।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ে। এমনকি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমতে থাকে। জ্বালানি তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে, আমদানি অব্যাহত রাখতে, সরকার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়। গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ দাম বাড়ায় সরকার। এর জেরে তরতর করে বাড়ে গণপরিবহনের ভাড়াসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম। এতে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে। দাম বাড়ানোর ২৩ দিন পর গত ২৯ আগস্টে প্রতি লিটারে ৫ টাকা দাম কমানো হয়। পণ্যমূল্যে এর কোনো প্রভাব পড়েছে, এমনটা কেউ বলেননি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ১৭৮ টাকা। ওই মাসে ৫০ টাকা কমিয়ে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। অবশ্য পরের মাসেই বাড়ানো হয় দাম। ফেব্রুয়ারিতে ক্রেতাপর্যায়ে সিলিন্ডার হাতবদল হয় ১ হাজার ২৪০ টাকায়।
মার্চে এক লাফে ১৫১ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ১ হাজার ৩৯১ টাকা। দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে পরের মাসেও। এপ্রিলে ৪৮ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ১ হাজার ৪৩৯ টাকা।
মে মাসে দামের লাগাম টানা হয়। ১০৪ টাকা কমিয়ে করা হয় ১ হাজার ৩৩৫ টাকা। জুন মাসে ৯৩ টাকা কমিয়ে করা হয় ১ হাজার ২৪২। পরের মাসে ১২ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ১ হাজার ২৫৪ টাকা। আর আগস্টে ৩৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২১৯ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল বিইআরসি।
এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এ দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এ সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বিডি রহমত উল্লাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রাজধানীর বাসাবাড়িতে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। চুলা জ্বলছে টিমটিম করে, অনেক এলাকায় চুলা জ্বলছে না বললেই চলে। গ্যাসের সংকট দূর করতে মাসের পর মাস গ্যাস সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের আশ্বস্ত করলেও সুফল আসছে না।
প্রবা/ইউরি /এসআর