প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:২৮ পিএম
আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:৪৬ পিএম
বুধবার রেল ভবনে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। প্রবা ফটো
বাংলাদেশের রেলওয়েতে আরও বিনিয়োগ করতে চায় চীন। বাংলাদেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বুধবার (৫ এপ্রিল) ইয়াও ওয়েন রেল ভবনে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে এ আগ্রহের কথা জানান।
চীনা রাষ্ট্রদূত পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।
ইয়াও ওয়েন বলেন, ’চীনের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর পাশাপাশি পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প হচ্ছে। বড় বড় স্থাপনা নির্মাণে চীনের বিশাল অভিজ্ঞতা আছে।’
রেলপথমন্ত্রী বলেন, ’চীন আমাদের অনেক বড় উন্নয়ন অংশীদার। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশ রেলওয়েতে এখন পদ্মা সেতু রেল সংযোগসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প চলমান আছে।’
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, রেলওয়ে একসময় অবহেলিত ছিল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে রেলওয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বঙ্গবন্ধু সেটি পুনঃস্থাপিত করেন। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা মন্ত্রণালয় করে দেন। তারপর থেকে রেলের উন্নয়ন হচ্ছে।
তিনি বলেন, ’একটি দেশের উন্নয়নের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা প্রয়োজন। বর্তমানে ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যই রেলের উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে।’
নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ’বাংলাদেশের রেলব্যবস্থা ব্রডগেজ এবং মিটারগেজ দ্বারা বিভক্ত। আমরা পুরোটাই ব্রডগেজে রূপান্তর করার চিন্তা করছি এবং সেভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া প্রতিটি জেলায় রেল সংযোগ স্থাপনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিঙ্গেল লাইনকে আমরা ডুয়েলগেজ করছি।‘ চীন আমাদের অনেক প্রকল্পে সাহায্য করছে এবং ভবিষ্যতে এ সাহায্য অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ’চীনের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর পাশাপাশি পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প হচ্ছে। বড় বড় স্থাপনা নির্মাণে চীনের বিশাল অভিজ্ঞতা আছে। আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’
চীনের অর্থায়নে অপেক্ষমাণ নির্মাণাধীন আখাউড়া-সিলেট এবং জয়দেবপুর-জামালপুর ডাবল লাইন নির্মাণের লক্ষ্যে নেগোসিয়েশন দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে তাগাদা দেন তিনি।
এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম হাই স্পিড লাইন নির্মাণ বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে চলমান ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেল প্রকল্পের কাজ চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেন সম্পন্ন করে, সেই লক্ষ্যে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানানো হয়। কারণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উক্ত কাজ করতে আগ্রহী নয়।
এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবীর, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।