সার আত্মসাৎ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৯:৩০ পিএম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৯:৫৫ পিএম
সার আত্মসাতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোনো দরপত্রে কামরুল আশরাফ খান পোটন অংশ নিতে পারবেন না। প্রবা ফটো
৭২ হাজার মেট্রিক টন রাসায়নিক সার আত্মসাৎ করায় সাবেক সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খানের (পোটন) মালিকানাধীন মেসার্স পোটন ট্রেডার্সকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সরকারিভাবে আমদানি করা সারগুলো বন্দর থেকে খালাসের পর গুদামে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল পোটন ট্রেডার্সের। পোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।
সোমবার (৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে সারবিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সভায় শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ’কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কোনো দরপত্রে কামরুল আশরাফ খান পোটন অংশ নিতে পারবেন না। তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সার আত্মসাতের কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু তিনি উল্টো মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।’
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা ৩ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার খালাসের পর সরকারি গুদামে পৌঁছে দিতে পোটন ট্রেডার্সের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সারগুলো ৫০ দিনের মধ্যে গুদামে পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও তার মধ্যে ৭২ হাজার টন সার গুদামে সরবরাহ করেনি পোটন ট্রেডার্স। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ৫৮২ কোটি টাকা।
আসন্ন অর্থবছরে (২০২৩-২৪) সারের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই জানিয়ে ড. রাজ্জাক বলেন, ’খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সার নিয়ে কোনো সংকট সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। আগামী বাজেটে সারের দামও বাড়ানো হবে না।’
মন্ত্রী বলেন, ’আগামী অর্থবছরে ২৭ লাখ টন ইউরিয়া, ১৬ লাখ টন ডিএপি, সাড়ে ৭ লাখ টন টিএসপি, ৯ লাখ টন এমওপি, ৩০ হাজার টন এমএপি, ৩০ হাজার টন এনপিকেএস, সাড়ে ৫ লাখ টন জিপসাম, ১ লাখ ৪০ হাজার টন জিংক সালফেট, ২ হাজার ৫০০ টন অ্যামোনিয়াম সালফেট, ৯০ হাজার টন ম্যাগনেশিয়াম সালফেট এবং ৫০ হাজার টন বোরন প্রয়োজন হবে।’
উল্লেখ্য, সারের আমদানিকারক শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিসিআইসির দুটি তদন্তে পোটনের সার আত্মসাতের বিষয়টি উঠে আসে। সারগুলো খালাস হয়েছিল ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের ১৫ মের মধ্যে। পোটন সার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) সভাপতি।