প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩:২৩ পিএম
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:২০ পিএম
রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্স ফিলিপের সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
ব্রিটেনের দীর্ঘতম সময়ের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ প্রয়াত হয়েছেন বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর)। ব্রিটেনকে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে শাসন করে গেছেন তিনি। সফর করেছেন পৃথিবীর নানা দেশ। তার অসাধারণ জীবন ও শাসনামলে তিনি দুবার বাংলাদেশ সফর করেছেন।
রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানারও সাক্ষাৎ হয়েছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একজন প্রগতিশীল রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শেখ মুজিব বিশ্বনেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন। এরই অংশ হিসেবে লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্স ফিলিপের সঙ্গে দেখা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দুর্লভ মুহূর্তের একটি ছবিতে রানী এলিজাবেথের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায় বঙ্গবন্ধুকে। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিন্স ফিলিপ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল লন্ডনে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় করেন। সেই সময় তিনি ২৫তম কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী একই স্থানে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গেও শুভেচ্ছাবিনিময় করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কমনওয়েলথ দেশগুলোর অন্যান্য সরকারপ্রধান ও নেতাদের সঙ্গে রানীর দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেন।
অন্যদিকে, এ বছরের ২ থেকে ৫ জুন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সিংহাসনে ৭০ বছরপূর্তি উপলক্ষে প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপন অনুষ্ঠানমালার একটিতে যোগ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা।
সর্বশেষ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছিলেন, আমরা বন্ধুত্ব এবং স্নেহের অভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ, যা আমাদের অংশীদারিত্বের ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে। এটি ৫০ বছর আগের মতো আজও গুরুত্বপূর্ণ।

৯৬ বছর বয়সী রানী গত বছরের অক্টোবর থেকে স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। যা তাকে হাঁটতে ও দাঁড়াতে অসুবিধায় ফেলছিল। বুধবার তিনি বিশ্রামের কথা বলে তার সিনিয়র রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে একটি পরিকল্পিত বৈঠকও বাতিল করেন। আগের দিন তিনি তার স্কটিশ হাইল্যান্ডস রিট্রিট, বালমোরালে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও তার উত্তরসূরি লিজ ট্রাসের নিয়োগ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
এদিকে ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে রবিবার পর্যন্ত বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। এই সময়ে বাংলাদেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের আগে ১৯৬১ সালে একবার এই ভূখণ্ডে এসেছিলেন দ্বিতীয় এলিজাবেথ। সে সময় তিনি ঢাকার সুগন্ধা স্টেট গেস্ট হাউসে অবস্থান করেন। এই সফরে আদমজী জুট মিল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রানী। এরপর বঙ্গবন্ধুর সৌহার্দ্যের ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৩ সালের ১৪ নভেম্বর দ্বিতীয়বার চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

ওই সফরের সময় তিনি চট্টগ্রামের একটি মডেল গ্রাম ও গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বৈরাগীরচালায় যাওয়ার জন্য ট্রেনে ভ্রমণ করেছিলেন। চট্টগ্রামে তিনি চাল থেকে কীভাবে 'মুড়ি' তৈরি করা হয় তা দেখেছিলেন। এ ছাড়া হস্তশিল্প, সোনার চাদর এবং মাটির পাত্রসহ বিভিন্ন কারুশিল্প রানীকে মুগ্ধ করেছিল। রানী ট্রেনে করে ঢাকা থেকে শ্রীপুরে এবং পরে গাড়িতে বৈরাগীরচালা যান। তার ভ্রমণকে কেন্দ্র করে ট্রেনটি ফুল দিয়ে সাজিয়েছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ ছাড়া রানীকে মেটাল রিলিফ এবং স্ক্রলিং লিফ বর্ডারসহ একটি কাঠের ফলক উপহার দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। সরকার তার সম্মানে দশ টাকার পোস্টাল স্ট্যাম্পও প্রকাশ করেছিল। রানীর ভ্রমণের উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে ছিল--জাতীয় স্মৃতিসৌধ, যেখানে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে নিহতদের সম্মানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছিলেন।
প্রবা/রাই /এসআর/টিকে