প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৬:৪২ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:০৯ পিএম
ড. আকবর আলি খান। ফাইল ছবি
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলি খানকে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার পর তাকে সেখানে দাফন করা হয়।
এর আগে বাদ জুমা রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজা শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আকবর আলি খানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ গুলশান-১-এর বাসায় নেওয়া হয়। পরে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ উপদেষ্টাকে শ্রদ্ধা জানাতে তার বাসায় যান প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, সাবেক সচিব আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, কবি সোহরাব হোসেন, দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ এবং সরকারি সাবেক বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও তার স্বজনরা।
কবি সোহরাব হোসেন বলেন, আকবর আলি খান তার কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন। তিনি সবসময় যে সত্য লিখেছেন, সেই লেখনীর মাধ্যমে তিনি বেঁচে থাকবেন।
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের পানিসম্পদ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও তার নিজের আত্মজীবনীর দ্বিতীয় খণ্ড--এ তিনটি বই লেখা ও প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আকবর আলি খান চলে গেলেন। তার লেখনীর মাধ্যমে জাতি তাকে স্মরণ রাখবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ড. আকবর আলি খানকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।
১৯৪৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে জন্মগ্রহণ করেন আকবর আলি খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
আকবর আলি পেশাগত জীবনে বাংলাদেশ সরকারের অর্থসচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনাও করেছেন তিনি। এই শিক্ষক লেখক হিসেবেও স্পষ্টবাদী ও জনপ্রিয়।
এই ইতিহাসবীদের প্রকাশিত মোট গ্রন্থের সংখ্যা ১৭টি। অর্থনীতি বিষয়ে ‘পরার্থপরতার অর্থনীতি’ এবং ‘আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি’ নামে তার দুটি বই ব্যাপক পাঠকপ্রিয়।
প্রবা/এইচকে/এমআই