প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৩ ১৯:৫৭ পিএম
আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৩ ২০:১৩ পিএম
শনিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে ১২তম আন্তঃস্কুল বাংলা অলিম্পিয়াডের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। প্রবা ফটো
লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, আবৃত্তি, সংগীতসহ নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে হবে। তাহলেই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই কাজের শেষপ্রান্তে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
শনিবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে ১২তম আন্তঃস্কুল বাংলা অলিম্পিয়াডের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ইন্টারন্যাশনাল হোপ স্কুল বাংলাদেশ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এমপি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. হাকিম আরিফ। স্বাগত বক্তব্য দেন ইন্টারন্যাশনাল হোপ স্কুলের অধ্যক্ষ রোকসানা জারিন, স্কুলের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ জলদোশভ। উপস্থাপনা করেন আবৃত্তিশিল্পী মাহিদুল ইসলাম।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ’বাংলা অলিম্পিয়াড ইংরেজি মাধ্যম এবং ইংরেজি ভার্সন স্কুলগুলোকে নিয়ে অসাধারণ আয়োজন। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা যতটা সহজে ইংরেজি শিখতে পারে, বাংলাটা সাধারণত তাদের এতটা ভালো হয় না। কবি জীবনানন্দ দাশের মা কবি কুসুমকুমারী দাশ লিখেছেন, ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’। বাংলা অলিম্পিয়াডে এসে মনে হচ্ছে, এখানকার ছেলেমেয়েরা কথায় নয়, কাজে বড় হয়েছে। ক্লাসের পড়াশোনা যথেষ্ট নয়, শিক্ষার্থীদের আরও নানা কাজকর্মে যুক্ত হতে হবে। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, ‘বাংলাভাষা আমাদের গর্বের জায়গা। আমি একজন বাঙালি। ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন রফিক, বরকত, সালাম, জব্বার, সফিউরের মতো ভাষাশহীদেরা। এটি পৃথিবীতে বিরল। জন্ম নেওয়ার যদি সুযোগ থাকে তবে বারবার নয় হাজারবার জন্ম নিতে চাইব এ বাংলায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাংলায় কথা বলি, বাংলা আমার অহংকার। খেলাধুলার জন্য নানা দেশে গিয়ে বাধ্য হয়ে ইংরেজি বলি। কিন্তু বাংলা আমার সবচেয়ে বড় অহংকারের জায়গা।’
মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বলেন, ‘মাতৃভাষা হচ্ছে মৌলিক অধিকার। এখাকার ৯৮ শতাংশ মানুষ বাংলায় ও বাকি ২ শতাংশ ৪০টি ভাষায় কথা বলে। ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোতে বাংলা কোর্স হিসেবে চালু হয়েছিল। ইন্টারন্যাশনাল হোপ স্কুলের প্রতিযোগিতার আয়োজনে অংশ নিয়ে আমরা দেখেছি তারা ভাষাকে ভালোবেসে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অন্যতম লক্ষ্য মাতৃভাষাগুলোকে প্রতিষ্ঠা করা। ফলে এবার আমরা বাংলা অলিম্পিয়াডের সহযোগী হয়েছি। ভাষা মানুষের আত্মপরিচয়। এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ছেলেমেয়েরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাক, তাদের পরিচয় বাঙালি।’
রোকসানা জারিন বলেন, ’প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় বাংলাভাষা-চর্চার এই প্রতিযোগিতার এক যুগ পূর্তির আয়োজন করতে পেরে ইন্টারন্যাশনাল হোপ স্কুল বাংলাদেশ আনন্দিত ও গর্বিত। আমরা মনে করি, এক যুগ ধরে এত বড় একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আমাদের স্কুল বাংলাভাষা ও সংস্কৃতিচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
অনুষ্ঠানে ৭০টি ইংরেজি মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সন স্কুলের ১৪৬ শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রথম স্থান অধিকার করেন ২৯ জন, দ্বিতীয় ৪৪ জন এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন ৭৩ জন।
প্রথম স্থান অধিকারীদের পুরস্কার হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে পদক, সনদ ও ৩ হাজার টাকা ও দলীয়ভাবে ১৮ হাজার টাকা চেক দেওয়া হয়। দ্বিতীয় স্থান অধিকারীদের পদক, সনদ ও ৩ হাজার টাকা, দলীয়ভাবে ১৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। তৃতীয় স্থান অধিকারীদের ব্যক্তি পর্যায়ে পদক, সনদ ও ২ হাজার টাকা ও গ্রুপ পর্বে ১২ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়।