প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৩ ২১:৫৬ পিএম
আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৩ ২২:১১ পিএম
জরায়ু ক্যানসারের নকল ভ্যাকসিন (টিকা) ও দেশে আমদানি নিষিদ্ধ হেপাটাইটিস-বি (জেনেভ্যাক-বি) টিকা। প্রবা ফটো
জরায়ু ক্যানসারের নকল ভ্যাকসিন (টিকা) তৈরি ও দেশে নিষিদ্ধ হেপাটাইটিস-বি (জেনেভ্যাক-বি) টিকা আমদানি করা একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তাররা হলেন, সাইফুল ইসলাম শিপন, ফয়সাল আহম্মেদ, আল-আমিন, নুরুজ্জামান সাগর ও আতিকুল ইসলাম।
পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. হারুন অর রশীদ বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ’অবৈধ পথে হেপাটাইসিস-বি টিকা আমদানি করত চক্রটি। পরে নিজস্ব মেশিনের মাধ্যমে একটি হেপাটাইসিস-বি ভাইরাসের টিকা দিয়ে ১০টি জরায়ু ক্যানসারের টিকা তৈরি করত। এসব টিকা কয়েকটি টিকা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুই বছর ক্যাম্পেইন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ হাজার মেয়ের শরীরে পুশ করেছে চক্রটি।’
পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ’এসব টিকা দেশে এনে সাইফুল নিজবাড়িতে মজুদ করেন। পরে তার সহযোগী কেরানীগঞ্জের হিমেলের কারখানায় হেপাটাইসিস-বি টিকার অ্যাম্পল খুলে জরায়ু ক্যানসারের টিকা সার্ভারিক্সের নকল প্রতি অ্যাম্পলে ১ মিলি করে দিয়ে জরায়ু ক্যানসারের টিকা হিসেবে বিক্রয় করে আসছিল। চক্রের তৈরি নকল জরায়ু ক্যানসারের টিকা ও অবৈধ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস টিকা গাজীপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পেইন করে বিক্রয় এবং বিভিন্ন ওষুধ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রয় করা হতো। অথচ গত তিন বছরে সার্ভারিক্স টিকা বাংলাদেশে আমদানি হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ’তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৯ হাজার টাকা মূল্যের ১২টি বক্সে মোট ১২০টি হেপাটাইসিস-বি ভাইরাসের টিকা, ২৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা মূল্যের হেপাটাইসিস-বি ভাইরাসের টিকা দিয়ে তৈরি ১ হাজার ২৫টি জরায়ু ক্যানসারের নকল সার্ভারিক্স টিকা, একটি সার্ভারিক্স ভ্যাকসিনের অ্যাম্পল প্রস্তুত করার মেশিন, অ্যাম্পলের গায়ে সার্ভারিক্স লেখা লেভেল ৫০ পাতা (প্রতি পাতায় ৪৫টি লেভেল), খালি অ্যাম্পল ১০০টি, অ্যাম্পলের ছিপি ৫০০টি, অ্যাম্পলের কক ৩০০টি এবং একটি প্রাইভেট কার ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।‘
প্রতিটি হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের টিকা ভারত থেকে অবৈধ পথে মাত্র ৩৫০ টাকা দিয়ে নিয়ে আসত চক্রটি। এরপর একটি টিকা দিয়ে ১০টি জরায়ু ক্যানসারের টিকা তৈরি করত। পরে প্রতিটি টিকা আড়াই হাজার টাকায় বিক্রয় করত।
এ ছাড়া রাজধানীর দারুসসালামের ডা. এ আর খান ফাউন্ডেশন, দক্ষিণখানের আল নুর ফাউন্ডেশন, টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকার পপুলার ভ্যাক্সিনেশন সেন্টারের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন ও বাজারজাত করত। এসব প্রতিষ্ঠান গাজীপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পেইন করে এসব নকল টিকা শিক্ষার্থীদের দেহে পুশ করেছে, যার ফলে তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।
ডিবি প্রধান বলেন, ’তারা ভারত থেকে কীভাবে এসব আনত, যেসব প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পেইন করে বিক্রি করত তারা কোন ভিত্তিতে ক্যাম্পেইন করত এবং বিক্রি করত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এ ধরনের টিকা তিনটি দিতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ’হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের টিকা ভারত থেকে অবৈধ পথে মাত্র ৩৫০ টাকায় আনা হতো। সেখানে একটি টিকার দামই নেওয়া হতো আড়াই হাজার। তার মানে একজন মেয়েকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা দিয়ে তিনটি টিকা নিতে হতো। চক্রটিকে রিমান্ডে নিয়ে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’