প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:১৪ পিএম
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২২:৩০ পিএম
পরিবেশ দূষণ। ফাইল ফটো
টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশ রক্ষার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতারা। তাদের মতে, দেশের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সঠিক আইন ও আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তাদের ভাষ্যে এমন বক্তব্য উঠে আসে। ‘সবুজ বাংলাদেশ : সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির তিন দিনব্যাপী এই কনফারেন্স আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশে আসার পর থেকেই সবুজ বাংলাদেশ গঠনের কাজ শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে কৃষক লীগ গঠনের মাধ্যমে তিনি সারাদেশে বৃক্ষরোপণের কাজ শুরু করেন। এখন পর্যন্ত পয়লা আষাঢ়ে তিনি এই কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটি।
হাছান মাহমুদ বলেন, প্রতিবছর মানুষ বাড়ছে আর কৃষিজমি কমছে। সেই সঙ্গে শিল্প-কারখানা, স্থাপনা নির্মাণ ও রাস্তাঘাট-অবকাঠামো উন্নয়নের ফলেও কৃষিজমি কমছে। এজন্য মানুষকে সচেতন করা দরকার। আইন থাকলেও কৃষিজমি রক্ষায় এর কোনো প্রয়োগ নেই। এজন্য নতুন একটি আইনের কথা ভাবা হচ্ছে, যাতে কৃষিজমি রক্ষা করা যায়।
টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশ রক্ষার বিকল্প নেই বলেও মত প্রকাশ করেন তথমন্ত্রী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যে দল এই সাবজেক্টের ওপর নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এটা করছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০২ সালে এই পদটি সৃষ্টি করেন। পঁচাত্তরের জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পর যখন তিনি দেশে ফিরে আসেন তখন থেকেই তিনি একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, যেটি বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। পরিবেশ রক্ষায় তিনি অনেক কাজ করেছেন। কৃষক লীগকে কাজে লাগিয়ে ওই সময় থেকে বৃক্ষরোপণ শুরু করেন, তখন তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রীও নন। এখন বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উচ্চকণ্ঠ।
সেমিনারে দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাদের সুপারিশ তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির চেয়ারম্যান খন্দকার বজলুল হক।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে এবং সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশের শহরগুলো দূষণপ্রবণ হওয়ার কারণ হলো পরিবেশগত সমস্যা। বাংলাদেশকে বায়ু ও পানি দূষণমুক্ত রাখতে শিল্প এলাকায় যথাযথ বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা উচিত। মোটর গাড়ি, এয়ারো প্লেন, ট্রেন, শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে নির্গমণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন সেট আপ, ইটভাটা, অনাবৃত ভাবে পোড়ানো বা জ্বালিয়ে দেওয়া, কঠিন বর্জ্য ডাম্পিং নিয়ন্ত্রন করতে হলে সঠিক আইন ও আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
তিনি বলেন, দেশের পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোকে রক্ষা করার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করা উচিত এবং ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং খরা তীব্রতর হয়েছে, এই ধরনের দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। পরিবেশ সংক্রান্ত যথাযথ উন্নয়ন কার্যক্রম নিশ্চিত করার জন্য বজায় রাখার জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। নবায়নযোগ্য, টেকসই, জৈব উপাদান, জৈব রাসায়নিক এবং জৈব জ্বালানি উন্নয়নে কার্বন ডাই-অক্সাইডের অতিরিক্ত নির্গমন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
কনফারেন্সের উদ্বোধনী অধিবেশন শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের বিভিন্ন বিভাগ এবং সেন্টার ফর এডভান্সড রিসার্চ এন্ড সায়েন্স (কারস)-এ একযোগে পরিবেশ বিষয়ক ভিন্ন ভিন্ন সায়েন্টিফিক বিষয়ে আলোচনা, সায়েন্টিফিক সেশন, পোস্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।
কনফারেন্সে থিম স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রথিতযশা পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. আতিক রহমান। প্ল্যানারি স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. ব্যঞ্জামিন হাওডেন এবং জাপানের পরিবেশবিদ অধ্যাপক হিরোওকু মাতসুদা। এছাড়া ২০টি দেশের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবা/এইচকে