প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৩ ১৯:৩৪ পিএম
আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৩ ২০:০০ পিএম
সোমবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। প্রবা ফটো
বাংলাদেশ পুলিশে নারী
সদস্যদের সংখ্যা বাড়ায় বাহিনীটির সক্ষমতা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক
(আইজিপি) ও বাংলাদেশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
তিনি বলেছেন, ‘নারী পুলিশ সদস্যরা দক্ষতার সঙ্গে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু
একসময় পুলিশে নারীর পদচারণা এতটা মসৃণ ছিল না। তখন তাদেরকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
করতে হয়েছে। পুলিশে নারীদের অবস্থান আজ সুদৃঢ় হয়েছে পূর্বসূরিদের দেখানো পথ ধরে।
পুলিশে দুই ভাগ থেকে বেড়ে বর্তমানে নারী পুলিশের সংখ্যা আট ভাগে উন্নীত হয়েছে। নারী
সদস্য সংযোজনের ফলে আমাদের সক্ষমতার মাত্রা অনেক বেড়েছে।’
সোমবার (১৩ মার্চ) দুপুরে
রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক
নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সম্মাননা স্মারক প্রদান, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ
পুলিশের নারী সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে চমৎকারভাবে পালন
করে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। বিভিন্ন জেলার সার্কেল এসপি কিংবা সার্কেল অ্যাডিশনাল
এসপি হিসেবে যখন একজন নারী দায়িত্ব পালন করবে, তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যাবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব
করেন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস আ্যসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান
অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা
শেখ ফজিলাতুন নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের পরিচালক প্রফেসর
ড. তানিয়া হক। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ
সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
কর্মজীবনের পাশাপাশি
ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশের
কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ফাতেমা বেগম, সাবেক ডিআইজি মিলি
বিশ্বাস, এসবির ডিআইজি ও বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) সভাপতি
আমেনা বেগম।
পুলিশে নারীদের অংশগ্রহণের
কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে চারজন নারী ডিআইজি,
২৪ জন নারী অতিরিক্ত ডিআইজি ও ৬৪ জন নারী পুলিশ সুপার রয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশে নারী
পুলিশের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।’
নারীর অধিকারের কথা
উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘আমি যদি আমার অধিকার পেতে চাই তবে আমাকে সোচ্চার
হতে হবে। যোগ্যতা প্রমাণের মধ্য দিয়ে নিজের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। নারীরা যত চ্যালেঞ্জ
গ্রহণ করবে তারা তত এগিয়ে যাবে।’
করোনার সময় যখন মানবিকতার
চরম বিপর্যয় ঘটেছে তখন পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্নভাবে
নারী পুলিশ সদস্যদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছে, তার প্রশংসাও করেন পুলিশপ্রধান।
নারী ভিকটিমদের সুরক্ষার
বিষয় উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘নারী পুলিশ সদস্যরা নারী ভিকটিমদের সহায়তা দিচ্ছেন।
এতে নারীদের কাছে পুলিশের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। ট্রিপল নাইন (৯৯৯) একটি আস্থার প্রতিষ্ঠানে
পরিণত হয়েছে। এখানেও রয়েছে নারী পুলিশ সদস্যদের অনবদ্য অবদান।’
ডিএমপির প্রধান হিসেবে
কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক তার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশের নারী সদস্যরা দেশ ও দেশের বাইরে মেধা ও যোগ্যতার সঙ্গে দায়িত্ব
পালন করে তাদের সক্ষমতার প্রমাণ রাখছেন। বিশেষ করে, ডিএমপির ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার
ও উইমেন সাপোর্ট সেন্টারে শুধু নারী পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। নির্যাতিত নারীদেরকে
মানসিক ও আইনগত সেবাসহ বিভিন্নভাবে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন নারী পুলিশ সদস্যরা। নারীরা
যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন অদূর ভবিষ্যতে দেশে নির্দিষ্ট করে আলাদাভাবে নারী দিবস পালনের
দরকার হবে না।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে
ড. তানিয়া হক তার সুপারিশে বলেন, ‘অনলাইনে নিরাপদ বিচরণের জন্য জাতীয় থেকে তৃণমূল
পর্যায় পর্যন্ত আইনের যথাযথ প্রচার, প্রসার এবং প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এর সঙ্গে নারীদেরকেও নিজের আইনি অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে
এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই সকল মানুষের সমান
অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানসিকতা নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি
পরিবর্তনের মাধ্যমে এক্ষেত্রে সমতা আনতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে স্পেশাল
ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান ও অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম
বলেন, ‘ইন্টারনেটে সাইবার প্ল্যাটফর্মে নারীরা নিরাপদ
নয়। ফলে তারা নানাভাবে হয়রানি, বুলিংয়ের শিকার হয়। এমনকি আত্মহত্যার ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে।
বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে নারীদের সহায়তার জন্য সাইবার স্পেসে
প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবারকেন্দ্রিক আমাদের অন্যান্য ইউনিটও রয়েছে।
আমরা যদি সাইবার স্পেসে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে নারীদের ক্ষেত্রে
বড় বাধা কেটে যাবে। পুলিশ হিসেবে আমাদের ওপর সে দায়িত্ব বর্তায়।’
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি
বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে হলে নারী পুলিশ
সদস্যের সংখ্যা বাড়াতে হবে, নারীর ক্ষমতায়ন করতে হবে, তাদেরকে নীতিনির্ধারণীতে আনতে
হবে। পাশাপাশি সকল নারীকে সমান সুযোগ করে দিতে হবে। এই কাজের দায়িত্ব যেমন পুরুষ
সহকর্মীদের তেমনি নারীদেরও আছে। নারীদেরও আগামীর অগ্রগতির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ
করতে হবে। নিজেকে নারী হিসেবে না দেখে কর্মকর্তা হিসেবে ভাবতে হবে। তবেই আমরা এগোতে
পারব।’
‘ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন জেন্ডার বৈষম্য করবে নিরসন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ফাতেমা বেগম, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি রওশন আরা বেগম (মরণোত্তর), সাবেক ডিআইজি মিলি বিশ্বাস, বাংলাদেশ পুলিশ এয়ার উইংয়ের প্রথম নারী পাইলট ফাতেমা তুজ জোহরা এবং বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ককে (বিপিডব্লিউএন) সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।