প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৩ ২২:৩৩ পিএম
আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৩ ১৪:৪৯ পিএম
ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনখরচের প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। ক্ষুদ্র খামারে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা হলেও বড় খামারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিরউৎপাদন খরচ হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। আর বাজারে এসে তা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে পাইকারি ও খুচরা পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন বিষয়ে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য আসে।
পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয় এক অদৃশ্য এসএমএসের মাধ্যমে। করপোরেট কোম্পানিগুলো এসএমএসের মাধ্যমে যে দাম নির্ধারণ করে সে দামই বাজারে বাস্তবায়ন হয়। যখন প্রান্তিক খামারিদের হাতে মুরগি থাকে তখন করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো দাম কমিয়ে দিয়ে আমাদের ধ্বংস করে দেয়। আর যখন আমাদের হাতে পণ্য থাকে না তখন তারা দাম বাড়িয়ে দেয়। এখন আমাদের হাতে পণ্য নেই, এখন মুরগির কেজিপ্রতি দাম ২৫০ টাকা। গুটিকয়েক করপোরেট কোম্পানির হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় মুরগির বাজার এখন অস্থিতিশীল।’
মতবিনিময় সভায় ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) সভাপতি ও কাজী ফার্মস লিমিটেডের পরিচালক কাজী জাহিন হাসান বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ বাড়ায় অধিকাংশ ছোট খামারি ক্ষতিতে পড়েছে। অনেকে খামার বন্ধ করে রেখেছে এবং বাচ্চা কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। গত বছরের মে, জুন, জুলাই ও আগস্ট এবং এ বছরের জানুয়ারিতে বাচ্চার কোনো চাহিদা ছিল না। এর জন্য বাচ্চা ৮-৯ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাচ্চার দাম যখন ৩০-৩৫ টাকা ছিল তখন কিন্তু আমরা বাচ্চা ৮-৯ টাকায় বিক্রি করেছি। ওই সময় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পোষানোর জন্য উৎপাদন কমানো হয়েছিল। বাচ্চার উৎপাদন কমে যাওয়ায় ব্রয়লারে উৎপাদন কমে গেছে। ফলে ব্রয়লারের মূল্য বেড়েছে। তাই খামারিরা এখন লাভে ব্রয়লার বিক্রি করছে। এখন ব্রয়লারের বাচ্চার চাহিদাও বেড়ে গেছে। বাচ্চা উৎপাদনে খরচ এখন ৩৫-৪০ টাকা। আমরা বিক্রি করছি ৫৫ টাকায়। আবার বাচ্চার উৎপাদন বাড়লে দাম কমবে। তখন মুরগির দামও কমে আসবে।’
প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ তুলে ধরে কাজী জাহিন বলেন, ‘খুচরা খামারি পর্যায়ে এই খরচ হয় ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। তবে আমরা যারা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো মুরগি উৎপাদন করি, তাদের খরচ হয় ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।’
আলোচনায় কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের তথ্য প্রতিনিধি কাজী আব্দুল হান্নান বলেন, ‘মুরগির বাজার স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে আমদানির অনুমতি দেওয়া হোক। তবেই মুনাফালোভীদের দৌরাত্ম্য কমে আসবে। এতে লাভবান হবে ভোক্তারা। ভোক্তাদের কথা বিবেচনায় না নিয়ে যদি ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে, তবে তাদের লাগাম টানতে আমদানির ওপর জোর দিতে হবে।’
এ সময়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সিন্ডিকেট, করপোরেট গ্রুপ ও অদৃশ্য যে এসএমএসের কথা বলা হচ্ছে, আমরা তা খতিয়ে দেখব। আমাদের কাছে আগেও এই বিষয়গুলো এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র খামারিরা করপোরেটদের সঙ্গে পারছেন না। তাদেরও টিকিয়ে রাখতে হবে। ১৪০ টাকার মুরগি কেন ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে তা খতিয়ে দেখে কেউ জড়িত থাকলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রত্যেককে দোকানে ব্রয়লার মুরগি কত করে কেনা হয়েছে এবং কত দামে বিক্রি করা হচ্ছে তা ঝুলিয়ে রাখতে হবে। খুচরা বিক্রেতারা ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ না টানালে, সরকারি নির্দেশনা না মানলে, বাজার কমিটি বিলুপ্তির সুপারিশ করা হবে।’