× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বারবার কেন বিস্ফোরণ

ফয়সাল খান, ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৩ ০০:০৯ এএম

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৩ ০০:১০ এএম

বারবার কেন বিস্ফোরণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে বিস্ফোরণে ৫১ জনের মৃত্যুর পর বছর না ঘুরতেই গত শনিবার বিকালে সেই সীতাকুণ্ডে অক্সিজেন-গ্যাস উৎপাদন কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত হলেন ছয়জন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ওই দিন ভোরে রাজধানীর গুলশানে এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ হন দুজন। তাদের মধ্যে গোপাল মল্লিক নামে একজনের মৃত্যু হয়। রবিবার (৫ মার্চ) আবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় ভবনে বিস্ফোরণে মারা গেলেন তিনজন। দুই দিনেরও কম সময়ে তিনটি বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন মারা গেলেন আর আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এমন ঘটনা বারবার ঘটলেও এর জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগেও অনেক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। ২০২১ সালের ২৭ জুন রাজধানীর মগবাজারে বিস্ফোরণে ১২ জনের মৃত্যু হয়। ওই বিস্ফোরণে আশপাশের অনেক ভবন কেঁপে ওঠে। গ্যাসলাইন লিকেজ থেকে ওই বিস্ফোরণ হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য। এর আগে গ্যাসলাইন লিক থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে নারায়ণগঞ্জে। ২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে ইমামসহ ৩১ জন প্রাণ হারান। গত ২ ফেব্রুয়ারি ভাটারায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়। গত ডিসেম্বরে মিরপুরে এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে আরিয়ান নামে ১৪ বছরের এক কিশোর মারা যায়। ১২ জানুয়ারি সাভারে সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হয়ে সাদিয়া নামে সাত বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ব্রয়লার মুরগির খামারে বায়োগ্যাসের ট্যাংক বিস্ফোরণে জুবায়ের নামে এক যুবক নিহত হন। ১৮ অক্টোবর যশোরের অভয়নগরে সেমি অটো রাইস মিলের বয়লার বিস্ফোরণে এক শ্রমিক নিহত হন। ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হাজারীবাগের বউবাজার এলাকায় মেট্রো এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিস ডিপোতে কেমিক্যাল বিস্ফোরণে একজন নিহত হন। ৭ আগস্ট রাজধানীর তুরাগ থানার রাজাবাড়ী এলাকায় রিকশার গ্যারেজে কেমিক্যাল বিস্ফোরণে দগ্ধ মো. আলম নামে একজন মারা যান। ১৫ অক্টোবর রাজধানীর শ্যামপুরের জুরাইন কবরস্থান রোডে তিতাস গ্যাসের লাইনে কাজ করার সময় বিস্ফোরণে পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ হন। ১১ অক্টোবর পাবনার ঈশ্বরদীতে সড়ক কার্পেটিংয়ের সময় বিটুমিনের ড্রাম বিস্ফোরণে তিন শ্রমিক দগ্ধ হন।

চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকায় একটি বাড়িতে বিস্ফোরণে আটজন আহত হন। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ী এলাকায় গ্যাসের চুলার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ হন। ২৫ অক্টোবর মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় গ্যাসের লাইন চালু থাকায় দিয়াশলাই জ্বালাতেই বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন দগ্ধ হন।

এসব আলোচিত ও বড় ঘটনা ছাড়াও প্রতিনিয়ত ছোটখাটো অসংখ্য বিস্ফোরণ ঘটছে। হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিস্ফোরক আইন ও নীতিমালার তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন দাহ্যপদার্থ রাখা ছাড়াও এসব দুর্ঘটনার বড় একটি অংশ পুরাতন গ্যাসলাইন লিকেজ ও এসি থেকে হচ্ছে। মেকানিকদের অদক্ষতায় অনেক সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা বলছেন, গ্যাসের লিকেজ ও এসি-ফ্রিজের ছোটখাটো ত্রুটি সারাতে অনেকেই মেকানিক ডেকে আনেন। মেকানিকদের সঠিক কারগরি জ্ঞান না থাকার কারণে বেশিরভাগ সময়ই মেরামতের পরও ত্রুটি থেকে যায়, যে কারণে এসব জায়গায় বারবার বিস্ফোরণ ঘটে। তাছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন নিয়মিত পরীক্ষা না করার করাণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতার ওপর জোর দিতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) কেমিক্যাল অব ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ মোস্তফা আফরোজ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিল্ডিং কোডে এ সম্পর্কে গাইডলাইন দেওয়া আছে। চাইলে বিস্ফোরক পরিদপ্তরও গাইডলাইন দিতে পারে। গ্যাস লিকেজের কারণে যেসব দুর্ঘটনা ঘটে এতে ভয়বহতা বেশি ছড়ায়। এ জন্য নিয়মিত গ্যাসলাইনগুলো তদারক করা দরকার। বিশেষ করে অবৈধ লাইন বন্ধ করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ কোনো কারণে এসি বিস্ফোরণ ঘটে না। মেকানিক যখন এসি মেরামত করে তখন অনেক সময় লিকেজ থেকে যায়। ওই লিকেজ থেকে এসির বিস্ফোরণ ঘটে থাকে। এসি বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় নিহতদের বেশিরভাগই মেকানিক।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘উন্নত বিভিন্ন দেশে মেকানিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের নিবন্ধন থাকে। নিবন্ধিত মেকানিকের বাইরে কেউ কাজ করাতে পারে না। কিন্তু আমাদের দেশে এমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যার যাকে ইচ্ছা তাকে দিয়েই মেরামত কারাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার তো মনে হয় ঢাকা শহরে সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত রয়েছে। এই রহমত না থাকলে কত লোক যে মারা যেত তা হিসাব করে শেষ করা যাবে না।’
বারবার বিস্ফোরণের ঘটনায় জীবনের অধিকারের প্রতি হুমকি বলে মনে করছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে কমিশন বলছে, একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি মানুষের জীবনের অধিকারের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কমিশন মনে করে এসব ঘটনায় মালিকের যেমন দায় রয়েছে তেমনি সরকারের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠাগুলোও এর দায় এড়াতে পারে না।

সায়েন্স ল্যাবের ঘটনা তদন্ত করবে না বিস্ফোরক পরিদপ্তর

সায়েন্স ল্যাব বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত করছে না বিস্ফোরক পরিদপ্তর। ঘটনার পর রবিবার বিকালে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের একটি প্রতিনিধিদল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে। তারা মনে করছেন, তাদের কাজের আওতায় বিষয়টি পড়ছে না। প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. নায়েব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক (ঢাকা) সাব্বির আহমেদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সাব্বির আহমদ বলছেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানে যে গ্যাসের লাইন রয়েছে তার চাপ ১০০ পিএসআইয়ের নিচে। এ ছাড়া বিস্ফোরণস্থলে কোনো রাসায়নিক ছিল না। চাপ অন্তত ১০০ পিএসআই হলে এবং রাসায়নিক বিস্ফোরণ ঘটলে আমরা তদন্ত করি। যেহেতু দুটির কোনোটি ঘটেনি তাই সেখানে বিস্ফোরক পরিদপ্তর কোনো অনুসন্ধান চালাবে না।’

তবে কোনো সংস্থা তদন্ত কমিটি গঠন করলে সেখানে তাদের দায়িত্ব দিলে তারা কাজ করবেন উপ-প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক ড. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা