জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা হ্রাস
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৩ ২২:১৯ পিএম
আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৩ ০০:৪৪ এএম
ব্যাপক তহবিল সংকটের কারণে চলতি মার্চ থেকে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা কমিয়েছে। ফলে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে এই জনগোষ্ঠীকে। এতে করে ব্যাপক অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হবে। এর ফলে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে রোহিঙ্গাদের আরও জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ মার্চ ) এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মার্চ থেকে জাতিসংঘ ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে। জনপ্রতি কমেছে ১০ থেকে ১২ ডলার। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বলেছে, নতুন করে তহবিলের জোগান না হওয়ায় এ সহায়তা হ্রাস অনিবার্য ছিল।
খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দেওয়ায় ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের জনাকীর্ণ শিবিরগুলোতে বসবাসকারী প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিয়ানমারে মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ রিপোর্টার টম অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, তিনি শিবিরগুলোতে থাকা পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন, যাদের ইতোমধ্যেই খাবার কমাতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘খাদ্য সহায়তায় এই কমানোর বিষয়টি আক্ষরিক অর্থেই রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য জীবন-মৃত্যুর বিষয়। যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের ওপর একটি কলঙ্ক।’
অ্যান্ড্রুজ বলেন, ’রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ইতোমধ্যেই অপুষ্টি ও রক্তস্বল্পতা দেখা দিয়েছে।’
আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল ইউনিয়নসহ ১২টি বেসামরিক গোষ্ঠী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, খাদ্য সহায়তা কমানোর পরিণতি হবে ‘বিধ্বংসী’। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিলের ঘাটতির বিষয়টি জাতিসংঘের ব্যর্থতা।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খাদ্য সহায়তা কমানোর কারণে শিবিরে ইতোমধ্যেই বিদ্যমান ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করবে এবং শিশুশ্রম, মানব পাচার, বাল্যবিবাহ, অবৈধ কার্যকলাপ, যৌনকর্ম এবং অন্যান্য নেতিবাচক পরিস্থিতিসহ গুরুতর প্রভাব ফেলবে।’
ত্রাণকর্মীরাও একমত যে, এই খাদ্য ঘাটতি নিরাপত্তাকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে এবং ক্যাম্পে মাদক পাচার বাড়াতে পারে। গত বছর রোহিঙ্গা অপরাধী গোষ্ঠীর মধ্যে মাদক-সম্পর্কিত বেশকিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অনানুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ ও বিদেশি কূটনীতিকরা ক্যাম্পের বাইরে বিশেষ করে কক্সবাজারের পর্যটন খাত, কৃষি ও শিল্প খাতে রোহিঙ্গাদের কাজ করার অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।