প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২৩:২৩ পিএম
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৩৩ এএম
ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। ফাইল ছবি
সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও বিএনপির একসময়ের প্রভাবশালী নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এখানে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
নাজমুল হুদার অফিস সহকারী মো. কামরুল বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার পরে ডাক্তার স্যারকে মৃত ঘোষণা করেছেন। ম্যাডাম ব্যারিস্টার সিগমা হুদা এবং তার দুই মেয়ে অন্তরা সামিলা ও শ্রাবন্তী আমিনা বর্তমানে হাসপাতালে রয়েছেন।‘
নাজমুল হুদার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কেমোথেরাপি নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার একান্ত সচিব আক্কাস আলী খান। তিনি জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে ধানমন্ডির সাতমসজিদে তার প্রথম জানাজা হবে। সেখান থেকে শেষবারের মতো তিনি ফিরবেন নিজ এলাকা দোহারে। সেখানে জয়পাড়ায় বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। নিজ গ্রাম শাহীনপকুরে আর এক দফা জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে সবশেষ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ‘তৃণমূল বিএনপির’ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন নাজমুল হুদা। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তার দল ইসির নিবন্ধন পায়।
এর আগে বিএনপি গঠনের সময়ই তিনি দলটিতে যুক্ত হন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান তাকে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিতে নিয়েছিলেন।
এরপর খালেদা জিয়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রেখেছিলেন হুদাকে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে মন্ত্রী ছিলেন। মাঝে একবার দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে পুনরায় ফিরেছিলেন তিনি। তবে ২০১২ সালে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিএনএফ নামে নতুন দল গঠন করেন তিনি। পরে সেই দল থেকে তাকেই বহিষ্কার করে ২০১৪ সালে এমপি হন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।
এরপর বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (বিএনএ) এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি (বিএমপি) নামে দুটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়েন হুদা। তাতে সফল না হওয়ার পর ‘তৃণমূল বিএনপি’ নামে নতুন দল করেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে ইসির নিবন্ধন পেতে আবেদন করে তৃণমূল বিএনপি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের আবেদন না করা, সরকার নির্ধারিত ফির চালান জমা না দেওয়া এবং নিবন্ধন দেওয়ার মতো তথ্য না থাকার কারণ দেখিয়ে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ইসি।
নিবন্ধন না মেলায় ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা আদালতে যান। সেখানে আবেদনের পক্ষে আদেশ পেয়ে নিবন্ধন পায় তার দলটি।
১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালে পরপর তিনবার ঢাকা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাজমুল হুদা। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের জন্ম ১৯৪৩ সালের ৬ জানুয়ারি।