প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০০:৫৩ এএম
রোহিঙ্গা ক্যাম্প। সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা কমাচ্ছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। অর্থসংকটের কারণে রোহিঙ্গা সংকটের প্রায় ছয় বছর পর এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, অনুদানে ১২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার কম থাকায় আগামী ১ মার্চ থেকে প্রত্যেক রোহিঙ্গার জন্য তাদের বরাদ্দকৃত ১২ ডলারের খাদ্য সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে ১০ ডলার করা হবে।
বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর ডম স্কালপেল্লি বলেন, 'এটি রোহিঙ্গাদের জন্য একটি বড় মানবিক বিপর্যয়। একই মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর জন্য বড় আঘাত। অন্যান্য জরুরি সেবাগুলো সংকুচিত হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য সহায়তায় এই পরিবর্তনের, মাত্র ২ ডলার হলেও এর প্রভাব হবে মারাত্মক।'
ডব্লিউএফপি বলছে, রোহিঙ্গা অন্যান্য দুর্বল জাতিগোষ্ঠীর মতো নয়, ক্যাম্পগুলোতে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত। খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন মেটাতে রোহিঙ্গারা মানবিক সহায়তার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসার অন্যান্য অংশীজনের সহায়তা ডব্লিউএফও রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের খাদ্য ও পুষ্টিসহ অতি জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে।
বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে ভাউচারের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা হিসেবে মাসে প্রতি জনকে ১২ ডলার দেওয়া হচ্ছে। এই ভাউচার ব্যবহার করে তারা ক্যাম্পজুড়ে ডব্লিউএফপির আউটলেটগুলো থেকে চল্লিশটির বেশি শুকনো এবং তাজা খাবার বেছে নিতে পারে। সমন্বিত মানবিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ৪৫ শতাংশ রোহিঙ্গা পরিবার পর্যাপ্ত খাবার খাচ্ছে না এবং ক্যাম্পে ব্যাপকভাবে অপুষ্টি দেখা দিয়েছে। শিশুদের জন্য বিশ্বব্যাপী তীব্র অপুষ্টির হার ১২ শতাংশ। ডব্লিউএফপির সুপারিশে জরুরি হার ১৫ শতাংশের নিচে হলেও এটি এখনো বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। অন্তত ৪০ শতাংশ শিশুর শারীরিক বিকাশ ও বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ৪০ শতাংশ অন্তঃসত্ত্বা ও যারা বুকের দুধ খাওয়ান সেসব নারী রক্তশূন্যতায় ভুগছেন। এই অবস্থা সহায়তা কমানোর আগের।
কান্ট্রি ডিরেক্টর স্কালপেল্লি বলেন, ‘প্রতিটি সহায়তা কমানোর সঙ্গে সঙ্গে অপুষ্টি আরও বাড়বে। এই অবস্থা মানিয়ে নিতে পরিবারগুলো বিপজ্জনক কৌশল অবলম্বন করবে। আর দুঃখের বিষয় হলো নারী, কিশোরী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা যে অত্যাবশ্যক মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল তা অক্ষুণ্ন রাখতেস আমাদের অবশ্যই যথাসাধ্য চেষ্টা করতে।’ দ্রুত অনুদান না পেলে এ বছর খাদ্য সহায়তার পরিমাণ এভাবে আরও কাটছাঁট হতে পারে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএফপি।