প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৫:৪৯ পিএম
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:০৪ পিএম
নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। ফাইল ফটো
রাষ্ট্রপতি পদ লাভজনক নয়, তাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
আইনে আছে—দুদক কমিশনাররা লাভজনক কোনো পদে যেতে পারেন না। রাষ্ট্রপতি পদ লাভজনক নাকি লাভজনক নয়, এটি নিয়ে একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আপনাদের আসলে ব্যাখ্যাটি কী? জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, ‘দুদকের আইনে বলা আছে যে কমিশনাররা লাভজনক পদে যেতে পারবেন না। কিন্তু আপনারা জানবেন যে, নির্বাচন কমিশন যখন এটা করেছে, তখন আইন-কানুন জেনেই এটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন সাহেব যখন রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন, তখন এটি নিয়ে কোর্টে একটি মামলা হয়েছিল। কারণ বিচারপতির ক্ষেত্রেও একই আইন যে, উনারা লাভজনক পদে যেতে পারবেন না।’
তিনি বলেন, যেহেতু ওই সময়ে একটি মামলা হয়েছিল এবং ওই মামলায় হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছিলেন, সেখানে বলে দিয়েছেন যে, না, এতে কোনো বাধা নেই এবং সেই আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিলও হয়নি। অতএব যেহেতু আমাদের সামনে উচ্চ আদালতের একটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ রয়েছে যে, মহামান্য রাষ্ট্রপতির পদকে লাভজনক পদ বলা যাবে না এবং ওই রায়ে বলা আছে, লাভজনক পদ বলতে বোঝাবে প্রজাতন্ত্রের যারা কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদেরকে। এটি স্পষ্ট বলা আছে। অতএব এটি উনার (মো. সাহাবুদ্দিন) জন্য প্রযোজ্য নয়। উনার রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হতে আইনগত কোনো বাধা নাই।’
তাহলে আপনারা ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীনের ওইটাকেই মূল হিসেবে দেখছেন? এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘একটা জিনিস বুঝতে হবে যে, লাভজনক পদের বিষয়ে একেবারে স্পষ্টভাবে বলা আছে, লাভজনক পদ বলতে কী বোঝায়, যদিও তালিকা দেওয়া নেই। তবে লাভজনক পদের ক্ষেত্রে বলা আছে—প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত এবং কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি সরকারের ৫০ ভাগের অধিক অর্থ থাকে, তাহলে সেই পদে নিয়োগকে বলা হবে লাভজনক পদ। তো এখানে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী উনারা কিন্তু প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী না। এগুলো হলো সাংবিধানিক পদ। যেহেতু সাংবিধানিক পদ অতএব লাভজনক পদের ডেফিনেশনে এরা পড়ে না। আর যেহেতু এটি নিয়ে একটি মামলাই হয়েছিল এবং আমাদের আইন যেটা বলে সেটি হলো—হাইকোর্ট বা আপিল বিভাগের যদি কোনো রায় থাকে, সেই রায় আইন হিসেবে গ্রহণ করা হবে। যেহেতু ওখানে রায়ে বলা আছে—বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের ক্ষেত্রে উনি যখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার সময় মামলা হয়, তখন মামলাটা খারিজ হয়ে গিয়েছিল এবং আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির পদটি লাভজনক পদ নয়। এটি সাংবিধানিক পদ। অতএব এটি তার জন্য বার (বাধা) হবে না।’
আজ রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। গতকালই তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট করলেন। উনি যদি আজকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এই সুযোগটা বন্ধ করে দেওয়া হলো না? এটি কি আইনসিদ্ধ হলো—জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এটি অবশ্যই আইনসিদ্ধ। আইনে স্পষ্ট লেখা আছে যে, যদি একাধিক প্রার্থী না থাকে এবং মনোনয়নপত্র বাছাই করার পরে যদি দেখা যায় যে, উনার মনোনয়নপত্র সঠিক আছে, বৈধ আছে। তাহলে ওই সময় তাকে নির্বাচিত হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেবেন। এটির জন্য আর প্রত্যাহার করার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।’