তুরস্কে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:১৬ পিএম
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:৩৪ পিএম
জীবিত উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী গোলাম সাঈদ রিংকু। প্রবা ফটো।
তুরস্কে ভয়াবহ ভূমিকম্পে আহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী গোলাম সাঈদ রিংকু এখনও হাসপাতালেই রয়েছেন। তবে তার আঘাত গুরুতর নয়। তিনি নিজেই পরিবারের সদস্যদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
রিংকুর বাবা গোলাম রব্বানী বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘রিংকুর সঙ্গে আজ (বুধবার) সকালে ও বিকেলে ভিডিও কলে আমি কথা বলেছি। সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। তবে তার হাত ও পায়ের ফোলা এখনও কমেনি। চোখটাও লাল হয়ে আছে।’
আঘাত গুরুতর না হলেও রিংকুকে আরও কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হতে পারে বলেও জানান তিনি।
তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রফিকুল ইসলাম জানান, রিংকু বর্তমানে কাহারামানমারাস সুতচু ইমাম ইউনিভার্সিটি ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিন ট্রেনিং রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি হাত ও পায়ে ব্যথা পেয়েছেন। তাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রিংকু মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন। তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যে প্রায় ৩৬ ঘন্টা ধ্বংসস্তুপের মধ্যে আটকে থাকার কারণে তার মধ্যে এক ধরনের ভয়ও কাজ করছিল। তবে তিনি সেটি ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছেন।’
রিংকুর বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কাগইল ইউনিয়নের দেওনাই গ্রামে। ২০১৫ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য তুরস্কে পাড়ি জমান। তিনি সেখানকার কারামানমারাস প্রদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল বিষয়ে মাস্টার্স করছিলেন। পড়ালেখার পাশাপাশি সেখানে খণ্ডকালীন চাকরিও করতেন।
রিংকু যে ভবনে থাকতেন সেটি গত সোমবার ভোরের ভূমিকম্পে ধসে পড়ে। তার সঙ্গে থাকা নূরে আলম নামে অপর এক শিক্ষার্থী দ্রুত বের হতে পারলেও রিংকু ভেতরে আটকা পড়েন। এর পর থেকেই তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তুরস্কের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে নিখোঁজের বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হয়।
ভূমিকম্পের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার তুরস্কের স্থানীয় সময় ৬টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা) দিকে রিংকুর সন্ধান পাওয়া যায়। চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রিংকুর সঙ্গে থাকা নূরে আলম নামে এক শিক্ষার্থী অনেক চেষ্টা করেও রিংকুর কোন খোঁজ পাচ্ছিলেন না। এ সময় কাতাদা নামে রিংকুর অপর এক বন্ধু স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে খুঁজে পান। পরে রিংকুকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।’