× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মেধার দাম নেই বাপেক্সে!

মামুন-অর-রশিদ

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০৯:৩১ এএম

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১০:১৪ এএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

থ্রি-ডি সিসমিক সার্ভে। বাংলায় যাকে বলা হয়, ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ। জ্বালানি তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে এই পদ্ধতি অত্যন্ত প্রচলিত ও কার্যকর বলে বিবেচিত। দেশের একমাত্র কোম্পানি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিডেট (বাপেক্স) তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে নিয়োজিত। সংস্থাটির একটি দল ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জরিপ চালিয়েছে, যার ফল বিশ্লেষণ করে নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। পুরোনো খনিতেও পাওয়া গেছে নতুন গ্যাস। কিন্তু দেশের জন্য সুখবর এনে দেওয়া এই জরিপকারীদের বাপেক্সে ধরে রাখার বদলে পদে পদে হয়রানি করেছে। খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল-গ্যাস অনুন্ধান ও উত্তোলনে দেশীয় প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে একটি মহল এই ষড়যন্ত্রে মেতেছে। তারা এতটাই প্রভাবশালী যে, শেষ পর্যন্ত জরিপ দলটিই ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার লোকজনও জানিয়েছেন, দেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান যদি থামিয়ে দেওয়া যায় তাতে কেউ না কেউ লাভবান হয়। কারণ, স্থলভাগের সব ব্লক রয়েছে বাপেক্সের হাতে।

অভিযোগের আঙুল জ্বালানি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হলেও চাকরি হারানোর ভয়ে এ বিষয়ে কেউ কথা বলেন না। সেই ভয় থেকে পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তারা বলেছেন, পেট্রোবাংলার একটি আইন রয়েছে যেখানে বলা হয়েছে, পেট্রোবাংলা এবং এর অধীন কোনো কোম্পানির কেউ যদি নিজেদের তথ্য সংবাদমাধ্যম বা অন্য কোনোখানে প্রকাশ করে তাহলে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সাময়িক বহিষ্কার এমনকি স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার বিধানও রয়েছে।

মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১০ সালে বাপেক্সকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়। সে সময় বাপেক্সকে রিগ ও ত্রিমাত্রিক জরিপের যন্ত্রাংশ কিনে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল দেশের স্থলভাগের সব ব্লক জরিপের মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলন করে দেশের চাহিদা মেটানো। শুরুতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ঋণ নিয়ে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের খনিতে ত্রিমাত্রিক জরিপ চালায় বাপেক্স। তখন গড়ে তোলা হয় ত্রিমাত্রিক জরিপ দল বা থ্রি-ডি জরিপ টিম।

সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের হাতে চারটি গ্যাসখনি রয়েছে- হরিপুর, রশিদপুর, কৈলাসটিলা ও বিয়ানীবাজার। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের কাজের মাধ্যমে বাপেক্সে একটি শক্তিশালী ত্রিমাত্রিক জরিপ দল গড়ে উঠবেÑ এই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ শুরু করা হয়। জরিপ দলের সদস্যরা জানান, সিলেট গ্যাস ফিল্ডে তারা ত্রিমাত্রিক জরিপের যে ফলাফল দিয়েছিলেন তার ভিত্তিতেই সম্প্রতি সেখানে খনন এবং ওয়ার্কওভার মিলিয়ে ১৪টি কূপ থেকে ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

ত্রিমাত্রিক জরিপ দল আরও সাফল্য

মন্ত্রিসভা কমিটি ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভোলা উত্তরকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেন। এই ক্ষেত্রটিকে দেশের ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র ঘোষণা করা হয়। অতিসম্প্রতি টবগী-১ কূপে গ্যাস পেয়েছে রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রম। এই কূপের অবস্থান চিহ্নিত করে দিয়েছিল বাপেক্সের ত্রিমাত্রিক জরিপ দল। ত্রিমাত্রিক জরিপ দলটির সূত্র বলছে, তারা ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালিয়েছে। সরকার গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ৪৬টি কূপ খনন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি কূপের লোকেশন দিয়েছে এই ত্রিমাত্রিক জরিপ দল। জরিপ দলটির কর্মীরা জানিয়েছেন, শাহবাজপুর ইস্ট-১, ভোলা নর্থ-২, ইলিশা-১, শাহবাজপুর-৬, ৭, ভোলা নর্থ-৩, শ্রীকাইল ইস্ট-১, শ্রীকাইল নর্থ-১, সুন্দলপুর-২, সুন্দলপুর-৩, বেগমগঞ্জ-৪ ওয়েস্ট, মোবারকপুর সাউথ ইস্ট-১, ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১ কূপের অবস্থানও চিহ্নিত করে তারা।। এসবের কোনো কোনোটিতে গ্যাস পাওয়া গেছে, আবার কোনোটি খননের অপেক্ষায় রয়েছে। 

স্লাম বার্জার এবং বাপেক্সের জরিপ দলের ফল একই

সিলেট গ্যাস ফিল্ড ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির ত্রিমাত্রিক জরিপের ফল ঠিক আছে কি না, তা দেখার জন্য একটি তৃতীয় পক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে জরিপের ফল মূল্যায়নের দায়িত্ব পায় যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক কোম্পানি স্লাম বার্জার। তথ্য বিশ্লেষণ করে এ কোম্পানিও একই ফল পায়। এরপরও বাপেক্সকে ব্যর্থ দেখানোর চেষ্টায় প্রচার করা হচ্ছে যে, জরিপে কিছু পাওয়া যায়নি। 

যেভাবে বিতর্কিত করা হয়

২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত খবরে সেদিন জানানো হয়, বাপেক্সের ত্রিমাত্রিক জরিপে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। বলা হয়, প্রকল্পের অধীনে ২৪৭ কোটি ৭০ লাখ টাকায় দেশের ৯টি স্থানে জরিপ করে বাপেক্স। কিন্তু তা কোনো কাজে আসেনি। অভিযোগ করা হয়, নানা অনিয়মের মাধ্যমে ২৪৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ত্রিমাত্রিক জরিপ প্রকল্পের পরিচালক মেহেরুল হাসান ও তার সিন্ডিকেট। গত বছর ১৪ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিক একই ধরনের প্রতিবেদন করে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপকে বিতর্কিত করতে ঘুরেফিরে সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন ২০১৯ সালের ২২ মে একটি প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকের শিরোনাম ছিলÑ ‘বাপেক্সের ২৪৮ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ’। একই সময় আরেকটি জাতীয় দৈনিকের খবরের শিরোনাম ছিল- ‘বাপেক্সের ত্রিমাত্রিক জরিপ প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয়ে ১৫৬ কোটি টাকার সরঞ্জাম ক্রয়’। কাছাকাছি সময়ে একই রকম খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখা গেছে। এসব খবরের বিষয়বস্তু এবং লেখার ধরন একই। এর মধ্যে দুটি পত্রিকার খবরের বিষয়ে পেট্রোবাংলা পরে তদন্ত করে। সেই তদন্তে সংবাদ দুটি সঠিক নয় বলে উঠে আসে।

তদন্ত প্রতিবেদন দুটি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি সংবাদের অভিযোগ সম্পর্কে বলছে, সরকারি ক্রয়নীতি (পিপিআর-২০০৮) অনুসরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে। বিনা দরপত্রে কাজ দেওয়া হয়নি।

২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত খবরে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলীর একটি বক্তব্য আছে। তিনি বলছেন, ‘এটা তো অবশ্যই, যেকোনো নিউজ, নেগেটিভ হোক আর পজিটিভ নিউজ হোক- তা আমার ওপর যায়। বাপেক্সের সিইও হিসেবে আমার ওপর আসে। কোনোক্রমেই কোনো অনিয়মকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগই নেই। সেই সময় যারা ম্যানেজমেন্টে ছিল, বিষয়টা তাদের খতিয়ে দেখা উচিত ছিল।’ মোহাম্মদ আলী ত্রিমাত্রিক জরিপ প্রকল্পের পরিচালক মেহেরুল হাসান সম্পর্কে বলেন, ‘উনি সম্প্রতি আবার পেট্রোবাংলায় বদলি হয়েছেন। যেকোনো জিনিসই একবারে ফুরিয়ে যাবে না। কোনো অনিয়ম থাকলে তা উদঘাটনপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবেই।’

মোহাম্মদ আলীর যে বক্তব্য ওপরে উল্লেখ করা হলো, তা যদি তার ওপরই প্রয়োগ করা হয় তাহলে কী হবে? অনুসন্ধান বলছে, তিনি ফেঁসে যেতে পারেন। কারণ, তৎকালীন বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক (ক্রয়) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনিই। ত্রিমাত্রিক জরিপ দলের ক্রয় কমিটিতেও তিনি ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বাপেক্সের তৎকালীন সচিব হিসেবে সব চুক্তিতে সই করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তার জিজ্ঞাসা, ‘সেই সময় যারা ম্যানেজমেন্টে ছিলেন বিষয়টা তাদের খতিয়ে দেখা উচিত ছিল’- এ কথা মোহাম্মদ আলী কাদের উদ্দেশে বলছেন? ষড়যন্ত্রের শিকড় কি এখানেই?

পুরো বিষয়টি তুলে ধরে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলীর কাছে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জবাব দেননি।

বাপেক্সকে বিতর্কিত করার পেছনে কারা

বিশ্বের অন্য দেশগুলোতে সাধারণত পাঁচটি কূপ খনন করলে একটিতে গ্যাস পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশে তিনটি কূপ খনন করলে একটিতে গ্যাস পাওয়ার নজির রয়েছে। সংগত কারণে দেশের স্থলভাগের দিকে নজর রয়েছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর। কিন্তু সরকার স্থলভাগের সব ব্লক এককভাবে বাপেক্সের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। স্থলভাগে তাই অন্য কোনো কোম্পানি কাজ করতে পারছে না। বাপেক্সকে কোনোভাবে ব্যর্থ প্রমাণ করা গেলেই কেবল তাদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য এসব কোম্পানির এজেন্টরা নানা সময় বাপেক্সকে বিতর্কিত করার মতো নানা বিষয় ও ঘটনা সৃষ্টি করে। বহুজাতিক যেকোনো কোম্পানি কাজ করতে এলেই তারা তাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।

ত্রিমাত্রিক জরিপ দলের কে কোথায়

কথা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলেন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসাইনের সঙ্গে। কেন ছাড়লেন বাপেক্স? এমন প্রশ্নে পাল্টা প্রশ্ন করলেন তিনি, ‘আমরা যে কাজ করতে গিয়েছিলাম সেই কাজের উপযুক্ত মূল্যায়ন কি হয়েছে?’ তিনি বলেন, ‘ভূতত্ত্বের ছাত্র হিসেবে বাপেক্সে গিয়েছিলাম দেশের জন্য কাজ করতে। তেল-গ্যাস অনুসন্ধান একটি বিশেষ ধরনের কাজ। এ কাজে বিশেষ পারদর্শিতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু আরও একটু ভালো থাকার আশায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বাপেক্সের উচিত মেধাবীদের ধরে রাখার চেষ্টা করা। কারণ, দেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের পুরো দায়িত্ব তাদের হাতে রয়েছে।’

বাপেক্সের ত্রিমাত্রিক জরিপ দলের সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি শুরু করেছিলেন এই সাখাওয়াত হোসাইন। তিনি বলেন, ‘বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও মৌখিক পরীক্ষা দিতে যাইনি। কারণ, আমি ভূতত্ত্ব ভালোবাসতাম।’ কিন্তু বাপেক্সে যোগ দিয়ে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। নতুন চাকরিতে যোগ দিতে হয়েছে।’

অনুসন্ধানে বাপেক্সের ত্রিমাত্রিক জরিপ দলের প্রায় দেড় ডজন সদস্যকে খুঁজে পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন অবসরে গেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে তিনজন গেছেন শিক্ষকতায়। ছয়জন সহকারী ব্যবস্থাপক থেকে ব্যবস্থাপক হয়ে বাপেক্সেই চাকরি করছেন। একজন নতুন প্রকল্প পরিচালক হয়েছেন। একজন একটি বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিতে চাকরি করছেন। আর প্রকল্প পরিচালক মেহেরুল হাসানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে পেট্রোবাংলায়। এদের কেউই এসব বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জ্বালানি খাতের শীর্ষ এক ব্যক্তির বাসায় বসে ‘উন্নয়নবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বাপেক্স থেকে তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। পরে তাকে পেট্রোবাংলায় প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে মেহেরুল হাসান কথা বলতে রাজি হননি।

কী বলছেন সাবেকরা

পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুরের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়ার এই চেষ্টাকে কীভাবে দেখছেন? তিনি বলেন, ‘অনেক মেধাবী ভূতত্ত্ববিদকে নিয়ে ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ দল গঠন করা হয়। তাদের কাজ খুবই সন্তোষজনক ছিল। কিন্তু বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানি করা হয়েছে। চাকরি ক্ষেত্রে তাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।’ এজন্য বাপেক্স ও জ্বালানি বিভাগকে দায়ী করে বিশিষ্ট এই ভূতত্ত্ববিদ বলেন, ‘২০১৪ সালের পর তাদের আর সেভাবে কাজই করতে দেওয়া হয়নি।’

সাবেক জ্বালানি সচিব রহমাতুল মুনিমের নাম উল্লেখ করে অধ্যাপক হোসেন মনসুর বলেন, ‘একজন ভূতত্ত্ববিদ হিসেবে রহমাতুল মুনিমকে জ্বালানি সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তবে এ খাতের উন্নয়নে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।’ অধ্যাপক মনসুর বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশে এসব করেছেন। এই রহমাতুল মুনিম বিএনপির জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনের সহকারী একান্ত সচিব ছিলেন।’

বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতিকুজ্জামান বলেন, ‘আমরা অনেক আশা নিয়ে ত্রিমাত্রিক জরিপ শুরু করেছিলাম। এর আগে সব সময় বিদেশিদের দিয়েই অতিরিক্ত ব্যয়ে জরিপ করানো হতো। আমরা নিজস্ব জনবল তৈরি করে নিজেরাই জরিপ করব, এই লক্ষ্য নিয়ে থ্রি-ডি জরিপ দল গঠন করা হয়েছিল। একদল তরুণকে যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু কার স্বার্থে তাদের অপবাদ দিয়ে থামিয়ে দেওয়া হলো, বিষয়টি বোধগম্য নয়।’ তিনি বলেন, তার সময় ১০৮টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই উদ্যোগটি ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই কাজও থামিয়ে দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা