বাম নেতাদের প্রতিক্রিয়া
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:০৫ পিএম
আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:১৬ পিএম
মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ফের বাড়ায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের নেতারা।
মঙ্গলবার সকালে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এতে বলা হয়, ভুল নীতি, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, অপচয় ইত্যাদি কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু এসব সত্য গোপন করে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ খাতে ভুল নীতি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত ও বিচারের দাবি জানানো হচ্ছে।
এর আগে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসে। পাইকারিতে গড়ে ৮ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ এবং খুচরায় ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য বিদ্যুতের নতুন দর ঠিক করার কথা জানায় সরকার।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা বিবৃতিতে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদের পাশাপাশি দ্রুত তা বাতিলের দাবি জানান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে সাধারণ নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। তারওপর বিদ্যুৎ গ্যাসের উপুর্যপুরি দামবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ করে তুলবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেনের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশেষজ্ঞরা এটা প্রমাণ করেছেন, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা রোধ করে বিদ্যুৎ খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। অথচ তা না করে জনগণের কাঁধে এই বোঝা চাপানো হচ্ছে। কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বিদ্যুতের দাম বাড়লে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিসহ সবক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো কোনোভাবেই যৌক্তিক না।’
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বিবৃতিতে বলেন, ‘বেসরকারি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ না কিনেও বসিয়ে রাখা হয়েছে। আবার ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিচ্ছে সরকার। দুর্নীতি ও ভুল নীতির সেই দায় জনগণের কাঁধে চাপাতেই সরকার দফায় দফায় দাম বৃদ্ধি করে চলেছে। এই দুর্নীতি ও ভুল নীতির দায় জনগণ বহন করবে না।’