প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:৩৯ পিএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ২৩:৩৯ পিএম
ফাইল ফটো
দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত কমিটি করে স্থানীয়ভাবে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের বিধান রেখে ‘যাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা বিল-২০২২’ সংসদে পাস হয়েছে।
বুধবার (২৫ জানুয়ারি) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনে সংসদে স্থিরকৃত আকারে বিলটি পাস হয়।
সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।
এর আগে বিলের ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে সামরিক সরকার আমলের আইন ‘যাকাত ফান্ড অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ বিলুপ্ত করে নতুন আইন প্রণীত হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, যাকাত সংগ্রহ, বিতরণ, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির ক্ষমতা বোর্ডের থাকবে।
কমিটি গঠন সম্পর্কে বিলে বলা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণে সিটি করপোরেশন, বিভাগ, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কমিটি গঠন করা যাবে। যাকাত তহবিল গঠন সম্পর্কে বিলে বলা হয়েছে, দেশে বা বিদেশে সংগৃহীত যাকাত শরিয়াহসম্মত খাতে বিতরণ করা যাবে।
বিলে ধর্মমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে যাকাত বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর সদস্য হবেন ধর্মসচিব (ভাইস চেয়ারম্যান), ধর্ম, অর্থ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন করে যুগ্ম-সচিব পদমর্যদার তিনজন কর্মকর্তা, সরকার মনোনীত পাঁচজন আলেম, সরকার মনোনীত ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের দুইজন প্রতিনিধি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সদস্য সচিব)। বছরে এই বোর্ডের কমপক্ষে দুটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সরকার এ বোর্ডের পরিচালনা ব্যয় বহন করবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যাকাত দারিদ্র্য বিমোচন ও পুনর্বাসনের হাতিয়ার। যাকাত কোনো স্বেচ্ছামূলক দান নয়, বরং যাকাত ধনীর সম্পদ থেকে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের জন্য আল্লাহ নির্ধারিত বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়া নির্দিষ্ট অংশ। দেশে ব্যক্তিগত পর্যায়ে যাকাত ব্যবস্থা চালু থাকলেও নানা কারণে তার কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছিল না। যাকাতের মাধ্যমে একসময় মুসলিম জাহানে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হয়েছিল। এই আইন পাস হলে দেশ থেকে দারিদ্র দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।