ফারুক আহমাদ আরিফ, সিলেট থেকে
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:১৫ এএম
নদীপাড়ের মানুষ সাধারণত নদীতেই গোসল করে। ছবি: প্রবা
দেলোয়ার হোসেন তালুকদার। বয়স ৬৫ বছর ছুঁই ছুঁই। ৫ ছেলে ও ২ মেয়ের বাবা। তার এই দীর্ঘ জীবনে কোনদিন ছেলে-মেয়েদের নদীর পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় সচেতন হতে বলেননি। তিনি নিজেও যেমন বলেননি তার এলাকায় কেউ নদীর পরিবেশ রক্ষা করতে হবে এমন কথা বলেছে কেউ, তা শুনেননি।
দেলোয়ার হোসেন একটি লুঙ্গি ও গামছা নিয়ে কুশিয়ারা নদীতে গোসল করতে এসেছেন। নদীপাড়ের অধিকাংশ মানুষ এমনকি প্রায় সবাই নদীতেই গোসল, কাপড়-চোপড় ধোয়া, থালা-বাসন মাজাসহ এ জাতীয় কাজ করেন। অনেক এলাকার মানুষ আবার নদীর পানি দিয়ে রান্নাও করে থাকেন। কিন্তু নদীকে আবর্জনামুক্ত রাখতে হবে, এই চিন্তা তাদের মধ্যে আসে না। রহিম মাঝি তো কখনো কখনো নদীর পানি খান (পান করেন)। তিনি বলেন, ‘আমরা পানির টান পরলে অতা নদীর পানি খায়াইল্লা।’
দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, সংসদ সদস্যরাও দূষণ বন্ধের ব্যাপারে কথা বলে না।’ তিনি অপর পাশে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ও সেখানকার সংসদ সদস্যের বাসার দিকে ইঙ্গিত করে জানান, ‘সেখানে ময়লার স্তুপ জমে আছে।’
তিনি বলেন, ‘ময়লা-আর্বজনা, প্লাস্টিক এগুলো তো পানি হলে ভাসাইয়া লইয়া যায়। আমরা এতো চিন্তা খরি না।’
নৌকাপথে ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার ও তার আশপাশে দেখা যায়, নদীর তীরে প্লাস্টিকের স্তুপ। স্তুপ বললে মিথ্যা বলা হবে বরং সেখানে প্লাস্টিক ও ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। যে যেভাবে খুশি প্লাস্টিক ফেলে রাখছে।
তখরিফ মিয়াকে প্রশ্ন করা হলে তিনিও একই কথা বলেন। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ‘নদী দূষিত হয়। নদীর পরিবেশ দূষিত হয়- এসব নিয়া আমাগর চিন্তা নাই।’
অষ্টম শ্রেণির ছাত্র খলিলুর রহমান। তাকে প্রশ্ন করা হয় বিদ্যালয়ে নদী দূষণ বিষয়ে শিক্ষকরা সচেতন করে কিনা? জবাবে সে জানায়, ‘শিক্ষকরা এই নিয়া খতা কয় না।’
সিলেটের কুশিয়ারা নদীতে এভাবে ময়লা ফেলা হয়েছে। ছবি: প্রবা
এ বিষয়ে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সবাই মিলে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আসলে কী হচ্ছে না সেটি রেখে কী করা দরকার সেদিকে মনযোগ দিতে হবে। জনপ্রনিধি, প্রশাসন, শিক্ষকসহ সবাইকে নদীদূষণ বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। গণমাধ্যমের শরণাপন্ন আমরা এজন্যই হয়ে থাকি। সবাই মিলেই নদীগুলোকে রক্ষা করতে হবে।’
সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার নৌ-ভ্রমণে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর তীরে প্রচুর নোংরা আবর্জনা। প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, ছেঁড়া জুতা, কলকারখানার বর্জ্যের ড্রেইন। এসব আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে নদীর পরিবেশ-প্রতিবেশ।