× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘অচিন্তনীয় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ’

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:৩২ পিএম

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:৩৩ পিএম

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ। ছবি: প্রবা

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ। ছবি: প্রবা

বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ বলেছেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতোই বাংলাদেশও অচিন্তনীয় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এর মধ্যে অন্যতম কোভিড-১৯, ইউক্রেনে রাশিয়ান আগ্রাসন ও জলবায়ু পরিবর্তন। এসবের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জের সময় আমরা বাংলাদেশকে উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো অর্জনের পথে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গতকাল রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের বন্ধুত্ব উদযাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে মূল অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক এমডির উদ্দেশে বলেন, বাজেট সহায়তার বিষয়ে না করতে পারবেন না। আর ইআরডি সচিব বাজেট সহায়তার ঋণের সুদহার কমানোর প্রস্তাব দেন।

বিশ্বব্যাংকের অঙ্গভুক্ত প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) তহবিল থেকে বার্ষিক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম অংশীদার বলে জানান ভ্যান ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশকে দিতে চাওয়া সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি একথা বলেন।

ট্রটসেনবার্গ বলেন, বাংলাদেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সময় বিশ্বের অন্যতম দরিদ্রতম দেশ থেকে ২০১৫ সালে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রথম উন্নয়ন সহযোগীদের অন্যতম হিসেবে এই যাত্রায় অংশীদার হতে পেরে গর্বিত। আমরা একে অপরের কাছ থেকে শিখেছি উন্নয়ন কীভাবে কাজ করে।

বিশ্বব্যাংক এমডি বলেন, আইডিএ হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের সবচেয়ে সস্তা ঋণ। পাঁচ বছরের রেয়াতকালসহ ৪০ বছরে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে পরিশোধযোগ্য এ ঋণ স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে দেওয়া হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক আইডিএভুক্ত দেশ বাজেট সহায়তা চায়। শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্যান্য দেশের চাহিদাও দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, করোনা সংকট ও ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটে অনেক দেশ বাজেট সহায়তা চায়। তারপরও আমরা সবার চাহিদার মাপকাঠির ওপর ভিত্তি করে অল্প করে বাজেট সহায়তা দেব। কোভিডের কারণে অনেক দেশের অর্থ দরকার।

পদ্মা সেতুতে ঋণ না দেওয়ায় বিশ্বব্যাংক কি অনুতপ্তÑ এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি ট্রটসেনবার্গ। তবে তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের ৫০ বছরের উন্নয়ন দেখছি। বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৩৬৫ প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে একটি প্রকল্পে ঋণ দেওয়া বা না দেওয়ার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। ৫০ বছরে ৩৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বিশ্বব্যাংকের এই এমডি বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষায় বিনিয়োগে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। শিক্ষা সব দেশের উন্নয়নের চাবি। ভোকেশনাল, প্রাইমারি, সেকেন্ডারি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার বিতরণ ও উপবৃত্তি কর্মসূচি নিতে হবে। কারণ শিক্ষায় বিনিয়োগ কমলে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা বাড়ে।

বাংলাদেশে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও জলবায়ু মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক কাজ করবে বলে জানান অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ। তিনি বলেন, উন্নত ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক। তবে বাংলাদেশকে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম জলবায়ু পরিবর্তন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও দারিদ্র্য।

বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। আমরা তাদের ব্যাপারে সরকারের নেওয়া প্রকল্পে সহায়তা দিয়েছি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তাদের জন্যও আমাদের সহায়তা দিতে হচ্ছে। তবে আমরা আশা করি, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে, তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে। কক্সবাজারে তাদের জন্য অবকাঠামো ও স্যানিটেশনে বিশ্বব্যাংক অনুদান দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করব, সরকারকে সব সময় এ ব্যাপারে অতিরিক্ত সহায়তা দিয়ে যেতে। 

বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করে বিশ্বব্যাংক এমডি বলেন, বাংলাদেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তবে সরকারকে মাইক্রো ইকোনমিক, এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কঠোর সংস্কারে নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, গত পাঁচ দশকের অসাধারণ যাত্রায় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অবিচল অংশীদার ছিল। ১৯৭২ সালের আগষ্ট মাসে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদস্য হয়। ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংক প্রথম প্রকল্প হাতে নেয়, যার মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পরিবহন ও যোগাযোগ, কৃষি ও শিল্পের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নির্মাণ ও বিদ্যুৎ খাতের সহায়তার জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলারের জরুরি পুনরুদ্ধার ঋণ দেওয়া হয়। একই সময়ে বিশ্বব্যাংক চারটি প্রকল্প পুনরায় চালু করে, যা স্বাধীনতার আগে অনুমোদিত।

‘স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের উন্নয়ন চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রমে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) আওতায় অনুদান, সুদবিহীন ঋণ এবং নমনীয় ঋণ হিসেবে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ৫৬টি চলমান প্রকল্পে প্রায় ১৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন করছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা