প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২২ ১৪:১৬ পিএম
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২২ ১৪:২৯ পিএম
বিসিএস কর্মকর্তাদের ৭৩তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রবা ফটো
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ করতে সরকারের নবীন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তৃণমূলের মানুষ যদি ভালো থাকে, দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি হবেই। এটা কেউ থামাতে পারবে না। তা চিন্তা করেই আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়নে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আজকে আমাদের নবীন যারা অফিসার, তারা সব সময় এটাই মনে রাখবে যে দেশের মানুষের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করতে হবে। যেখানে জাতির পিতা বলে গেছেন আজকে যতটুকু অর্জন এ দেশের, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতী মানুষ, তাদের রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, ঘাম ঝরিয়েই তো অর্জন করা। সেখান থেকেই তো বেতন-ভাতা আমাদের সবকিছু হয়। তাদের ভাগ্য আমরা কেন পরিবর্তন করব না?’
তিনি বলেন, ‘আমি চাই, আমাদের দেশটাকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। আমাদের এই তরুণ সমাজ আরও বেশি মেধা, মনন দিয়ে কাজ করবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ দেশের মানুষের কল্যাণ করা সবার দায়িত্ব। সেই ধারণাটা সব সময় মনের মধ্যে থাকতে হবে। মানুষের সেবক হতে হবে, জনগণের সেবক হতে হবে। জনগণের সেবাটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কথা। সবাই সেভাবে আপনারা কাজ করে যাবেন।’
সারা দেশে ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষদের ঘর দিতে সরকার যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, তা যেন যথাযথভাবে হয়, সেদিকে নজর রাখতেও সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের উন্নত জীবন, সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের নবীন প্রশিক্ষণার্থী, আমি তাদের আমার আশীর্বাদ জানাই। জনগণের সেবায় নিবেদিত, দক্ষ, পেশাদারি মনোভাবসম্পন্ন জনপ্রশাসন গড়ে তোলাটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
‘জনপ্রশাসন’ নামটাও নিজের দেওয়া উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি চাচ্ছি, জনগণ যেন সম্পৃক্ত থাকে সব কিছুর সঙ্গে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে এটা করা হয়েছে। কাজেই জনগণের সেবা করা এটা তো আমাদের সাংবিধানিক কর্তব্য সবার। এটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।’
জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে চলতে নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন এ অঞ্চলের মানুষ যে বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর আবারও সেই বৈষম্য ফিরে এসেছিল। সেখান থেকে জাতিকে মুক্তি দেওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্য নিয়েই আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
করোনাভাইরাস মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের ফলে সারা বিশ্বে যে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেটা আমাদের সাময়িকভাবে একটা কষ্ট আমাদের হচ্ছে বা দেশের মানুষের কষ্ট হচ্ছে। সেই কষ্ট কতটুকু আমরা লাঘব করতে পারি, আমাদের সেই প্রচেষ্টাটাই থাকবে। আজকে উন্নত দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে আমাদের অবস্থাটা আরও করুণ। তারপরও আমাদের যেটুকু সীমিত শক্তি আছে, সম্পদ আছে তাই দিয়ে জনগণের সেবা আমরা করে যাব। সে কথাটা মনে রেখেই আপনাদের চলতে হবে বলে নির্দেশনা দেন তিনি।
ঢাকার সাভারে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, বাংলাদেশে লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের রেক্টর রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবা/রাই /এসআর