গাজীপুর (টঙ্গী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:০৮ পিএম
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:১৪ পিএম
গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অংশ নিয়েছেন। প্রবা ফটো
গাজীপুরের টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমায় বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। প্রথম পর্ব শেষে তাবলিগ জামাতের জোবায়েরপন্থিদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছে সাদপন্থিরা।
চলতি বছরের ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীরা অংশ নেন। শুক্রবার ২০ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা শুরু হবে। ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মাওলানা সাদপন্থিরা ইজতেমা মাঠে জমায়েত হওয়া শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের ব্যবস্থাপনাবিষয়ক পর্বের জিম্মাদার মাওলানা আব্দুল্লাহ মনসুর অভিযোগ করেন, ‘জোবায়েরপন্থিরা ইজতেমা শেষ করে যাওয়ার সময় গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক নিবাসে বিদেশিদের ব্যবহার্য তৈজসপত্র বিনষ্ট করে গেছে। এগুলো মেরামত করতে দুই দিন সময় নষ্ট হয়েছে। নতুন করে অনেক কিছু কিনতে হয়েছে। মানুষকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে।’
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে জোবায়েরপন্থিদের অংশ নিতে দেওয়ার বিরোধিতা করেন তিনি।
মাওলানা আব্দুল্লাহ মনসুর বলেন, ‘প্রতিবছর জোবায়েরপন্থিদের প্রথম পর্ব প্রদান করা বৈষম্যমূলক। এতে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে ভুল বার্তা পৌঁছে। তারাও অপপ্রচার চালায়। আমাদের মুরব্বিদের দাবি, আগামী বছর প্রথম পর্ব সাদ অনুসারীদের মাধ্যমে যেন আয়োজন করা হয়। একেক বছর একেক পক্ষকে প্রথম পর্ব প্রদান করা হোক।’
সাদপন্থিদের অভিযোগের বিষয়ে প্রথম পর্বের ব্যবস্থাপনাবিষয়ক জিম্মাদার প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা কোনো কিছুই নষ্ট করিনি। সবকিছু অক্ষত অবস্থায় তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বরং সাদপন্থিরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া গোডাউনের তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে গেছে। তারা অপরাধ করে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দোষ ঢাকার চেষ্টা করছে। তারা ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। সাদ কান্ধালভীর তিন ছেলেকে তারা ফুল ছিটিয়ে ইজতেমা ময়দানে স্বাগত জানিয়ে নিয়ে এসেছে। তাবলিগের নিয়মানুসারে এখানে কোনো ব্যক্তিকে অধিক গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত নয়। তারা তাবলিগের তাছির (তাৎপর্য) নষ্ট করেছে।’
সাদপন্থিদের অভিযোগের বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘এ অভিযোগ সঠিক নয়। লাখ লাখ মানুষের ব্যবহারের কারণে কোনো কোনো জিনিস যেমন প্লাস্টিক কল নষ্ট হতে পারে। গ্যাসের চুলা ব্যবহারের পর খোলা হতে পারে। যারা আসবে তারা নতুন করে গ্যাসের চুলা লাগাতে পারে। আমরা বিনষ্ট কিছু পাইনি। দুই পক্ষকে একসঙ্গে নিয়ে ইজতেমা ময়দান হস্তান্তর করা হয়েছে।’
২০১৭ সালে তাবলিগ মারকাজের আমির মাওলানা সাদ কান্ধালভীর কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের কওমি আলেমদের সঙ্গে আকিদাগত মতপার্থক্য দেখা দেয়। এ্ররই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে বিশ্ব ইজতেমা মাঠে অবস্থানরত দুই পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এরপর দুই পক্ষ প্রকাশ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একপক্ষ ইজতেমা মাঠের মসজিদে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে প্রতি বৃহস্পতিবারের সাপ্তাহিক সব গুজারির আয়োজন করে। এতে সাদপন্থিদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
অপরপক্ষ তুরাগ নদের পশ্চিম পারে সরকারি এক টুকরো জমিতে মসজিদ নির্মাণ করে বিকল্প সব গুজারির আয়োজন করে। এরপর থেকে শুরু হয় পৃথক ইজতেমা। প্রশাসন থেকে আলেম-ওলামা পর্যন্ত বিভিন্ন মহলের চেষ্টার পরও বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে আর সদ্ভাব সৃষ্টি সম্ভব হয়নি।