প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:৪৫ পিএম
আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:০৭ পিএম
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ছবি সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ‘আশ্বাস’ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে এজন্য কিছু ধাপ পার হতে হবে। তাই প্রক্রিয়াটা একটু জটিল হলেও র্যাবের ওপর দেশটির আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিগগির উঠে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার (১৬ জানুয়ারি) ঢাকায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দুদিনের ঢাকা সফরে এসেছিলেন ডোনাল্ড লু। তার সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হয়। মার্কিন সহকারীমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনায় বসেছিলেন। রবিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ডোনাল্ড লু বলেছিলেন, ‘র্যাবের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।’
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডোনাল্ড লু বাংলাদেশ সফরকালে তার সঙ্গে দেশের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে একান্তে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে তার সঙ্গে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। অনেক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে। তখন মনে হয়েছে, বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, আমেরিকা সরকার সে বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চায়।
‘আমেরিকা বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে দেখতে চায়। এ দেশের মানবাধিকার যেন আরও ওপরে থাকে এটি তারা দেখতে চায়। তারা চায় এ দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। কেউ যেন সহিংসতায় লিপ্ত না হয়। এসব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘অতীতে বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, অগ্নিসন্ত্রাস সাহসিকতা ও সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। কীভাবে মোকাবিলা হয়েছে—সে বিষয়েও তাদের জানানো হয়েছে। সরকারের পদক্ষেপকে তারা প্রশংসা করেছেন।’
র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশ্বাস মিলেছে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তবে এজন্য অবশ্যই প্রক্রিয়া মেনে কতগুলো ধাপ পেরোতে হবে। আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমেরিকার প্রতিনিধিরা কাউকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পক্ষে নয়। ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা দিতে হলে দেখেশুনেই দেবে বলে আভাস দিয়ে গেছেন তারা। র্যাবের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছে। তবে সেটি একটি প্রক্রিয়ায় হবে। প্রক্রিয়ায় কতগুলো ধাপ পার হতে হবে।
‘তারা বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা যাদের দেওয়া হয়, সেটা প্রত্যাহারের সময় কতগুলো ধাপ পার হতে হয়। সে প্রক্রিয়াটা একটু জটিল। তবে তারা বলেছে, বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে চলছে সেটা উত্তরণ হবে এবং নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার হবে। এটাই তাদের বক্তব্য ছিল।’
তাই এ নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পদক্ষেপকে প্রশংসা করেছেন। সরকারের নেওয়া অতীতের পদক্ষেপ সঠিক ছিল, একইভাবে সামনে এগিয়ে যেতে বলেছেন। বাংলাদেশের আইনজীবীরা ভালো ভূমিকা রাখছে বলে তারা মন্তব্য করেছেন। আশা করছি র্যাবের ওপর থেকে হয়তো খুব শিগগির নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘অতীতে আমরা সঠিক কাজ করেছি বলে মার্কিন প্রতিনিধিদের বলেছি। র্যাব ভালো কাজ করছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সব সময় বলে আসছি। হয়তো তাদের চোখে যেটা পড়েছে সেটার আলোকে তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। প্রত্যাহারের জন্য সরকারের করা আবেদনও যথাযথ হয়েছে। আবেদন সঠিক আছে বলে তারা এখন বলছেন। চাপ দিতে বা আরোপ করতে আসেননি তারা। বরং বলেছেন—র্যাব ভালো করছে, বাংলাদেশ সঠিক পথে আছে। অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এভাবে চললে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে। প্রয়োজনে আরও সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন তারা।’
আলোচনায় আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ এসেছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘বলা হয়েছে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ নির্বাচন হবে। নির্বাচনের ৯০ দিন আগেই সব ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের কাছে চলে যায়। নিরাপত্তা বাহিনী এবং সরকারের সবকিছু তারা নিয়ন্ত্রণ করেন। মন্ত্রীরা শুধু অফিস ওয়ার্ক করেন, তেমন করণীয় কিছু থাকে না। কাজেই পুলিশ বাহিনীসহ যারা নির্বাচন কাজে সব সময় থাকেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।’