প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:১৭ পিএম
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:০২ পিএম
তামাকের বিকল্প কৃষিপণ্য চাষের জন্য তামাকচাষিদের প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।
তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি বিবেচনা করে তামাক চাষ ও ব্যবহার বন্ধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। এক্ষেত্রে কৃষি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করা হবে।
রবিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন অডিটোরিয়ামে ‘পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাবে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি কাজী রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য) কাজী জেবুন্নেছা বেগম, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. খলীকুজ্জমান আহমদ এবং ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের লিড পলিসি অ্যাডভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ। আলোচনা সভায় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিগণ তামাকের ব্যবহার বন্ধ করতে জোরালো বক্তব্য দেন।
মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ তামাক চাষ বন্ধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ কাজে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, তামাকের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তামাকের ব্যবহার নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই দূরদর্শী ঘোষণা বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অধিকতর সংশোধনী পাসে তার মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, তামাকজাত পণ্যের ব্যবসায়ীগণ যাতে অবৈধভাবে বৃক্ষনিধন না করতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে। ধূমপানের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে পাবলিক প্লেস ও পরিবহনসমূহ শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখতে সরকারের পাশাপাশি প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। দেশকে ধূমপানমুক্ত করতে এবং তামাক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের আগামী প্রজন্মকে রক্ষার জন্য সবাইকে একযোগে ও আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
মূল প্রবন্ধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের হেলথ অ্যান্ড ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, এক কেজি তামাক পোড়াতে প্রয়োজন ১২ কেজি কাঠ। আর ৩০০ সিগারেটের জন্য কাটা হয় একটি গাছ। আর একটি সিগারেট উৎপাদনে ব্যয় হয় ৩.৭ লিটার পানির।
প্রবন্ধে বলা হয়, নদী, খাল-বিলে মাছ কম ধরা পড়ছে তার মূল কারণ ৯৬ ঘণ্টা পানিতে সিগারেটের ফিল্টার ভিজিয়ে রাখলে মিঠা পানির অর্ধেক মাছ মরে যায়। তামাক থেকে রাজস্ব আসে বছরে ২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা আর স্বাস্থ্যজনিত ক্ষতি হয় ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ নীট ক্ষতিই হচ্ছে ৮ হাজার কোটি টাকা।
ইকবাল মাসুদ বলেন, পরিবেশ দূষণে বিশ্বের শীর্ষে তামাকের ফিল্টার। বছরে ৪.৫ ট্রিলিয়ন ব্যবহৃত সিগারেটের ফিল্টার আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়। এগুলো প্রকৃতির সঙ্গে মিশতে সময় নেয় ১০ বছর। বছরে ৪০ হাজার ৪৯০ টন বাট ও প্যাকেটে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটিয়ে থাকে। তামাকের বর্জ্যদূষণ থেকে বছরে মোট ৮৪ মিলিয়ন কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
কাজী জেবুন্নেসা বেগম বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে নিকোটিন টেস্টের আওতায় আনতে হবে।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, টেকসই উন্নয়নের তিনটি স্তম্ভ। তামাক জাতীয় ও পারিবারিক অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করে থাকে। ব্যক্তিটি মারা গেলে পারিবারিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতেও ক্ষতির সৃষ্টি করে। সামাজিক ক্ষতিতে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যায়। অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
তামাক কেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না সে সম্পর্ক বলেন, আগে সিগারেট তিন স্তর ছিল। পরে এটি চার স্তর হয়। আন্দোলনের ফলে এক স্তরে নামিয়ে আনা হয়। বর্তমানে ১ লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। ব্রিটিশ ও জাপান টোবাকো অনেক ভ্যাট দেয় বলে সরকার এটি বন্ধ করছে না। দুটি প্রতিষ্ঠানে সরকারের ১ শতাংশের কম মালিকানা আছে। এটি বাদ দিতে হবে।