প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১৩:১৫ পিএম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:৪৮ পিএম
২০২২ সালে সড়ক, নৌ ও রেলপথে ৬ হাজার ৮২৯টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৭১৩ জন নিহত হয়েছেন। গড় হিসাবে প্রতিদিন প্রাণহানি ঘটেছে ২১ জনের। একই বছর আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬১৫ জন।
মোট হতাহতের প্রায় অর্ধেক ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। বিদায়ি বছরে ২ হাজার ৯৭৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৯১ জন।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংস্থাটি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়—ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে ২০২২ সালে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে প্রায় ১৮ হাজার ৪৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে ইন্টারন্যাশনাল রোড অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রামের পদ্ধতিগত হিসাব অনুসারে অনেক দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশিত না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও ৩০ শতাংশ বাড়বে।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এআই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে একটি লিখিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়—২০২২ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬ হাজার ৮২৯টি। নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৭১৩ এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬১৫ জন। নিহতের মধ্যে নারী ১ হাজার ৬১, শিশু ১ হাজার ১৪৩।
২ হাজার ৯৭৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৯১ জন, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৬২৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪৮ জন, অর্থাৎ ২১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
আলোচ্য সময়ে ১৯৭টি নৌদুর্ঘটনায় ৩১৯ জন নিহত, ৭৩ জন আহত এবং ৯২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৩৫৪টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৩২৬ জন নিহত এবং ১১৩ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র
মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ৩ হাজার ৯১ জন (৪০ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ), বাসযাত্রী ৪২৭ জন (৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ), ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-ট্রাক্টর-ট্রলি-পরি আরোহী ৪৫৩ জন (৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ যাত্রী ২৬৮ জন (৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি- অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক টেম্পু-লেগুনা) ১ হাজার ২৪৮ জন (১৬ দশমিক ১৮ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-পাখিভ্যান-চান্দের গাড়ি-বোরাক মাহিন্দ্র-টমটম) ৩৯৩ জন (৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান আরোহী ২০৬ জন (২ দশমিক ৬৭ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন
দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ২ হাজার ৫৯৬টি (৩৮ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ২ হাজার ২০৫টি (৩২ দশমিক ২৮ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে ১ হাজার ১৮২টি (১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে ৭৮৪টি (১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৬২টি (০ দশমিক ৯০ শতাংশ) দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন
দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৩৩১টি (১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২ হাজার ৮৯২টি (৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১ হাজার ৬৪৮টি (২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৭৮৫টি (১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১৭৩টি (২ দশমিক ৫৩ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান
ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ; রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৫ দশমিক ১৫ শতাংশ, প্রাণহানি ১৫ দশমিক ০৫ শতাংশ; চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ২০ দশমিক ১২ শতাংশ, প্রাণহানি ২০ দশমিক ০৪ শতাংশ; খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, প্রাণহানি ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ; বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ, প্রাণহানি ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ; সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ, প্রাণহানি ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ; রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৮ শতাংশ, প্রাণহানি ৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ, প্রাণহানি হয়েছে ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগজুড়ে ১ হাজার ৮৪১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৪৪ জন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা সিলেট বিভাগে। ৩১৩টি দুর্ঘটনায় নিহত ৩৭৫ জন।