× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এক বছরে দেশে দুর্ঘটনা বেড়েছে ২৯ শতাংশ : নিসচা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:৪২ পিএম

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:২০ এএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে সারা দেশে দুর্ঘটনার হার ২৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে সড়ক, নৌ ও রেলপথে মোট ৭ হাজার ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগের বছর ২০২১ সালে ঘটেছে ৪ হাজার ৯৮৩টি। অর্থাৎ, ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে দুর্ঘটনা বেড়েছে ২ হাজার ৪১টি, শতাংশ হিসেবে যা ২৯ শতাংশ।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) ২০২২ সালের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান উপস্থাপন বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন (নিসচা)। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এ সময় ২০২২ সালের সড়ক দুর্ঘটনাবিষয়ক প্রতিবেদন তুলে ধরেন নিসচার চেয়ারম্যান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। 

তিনি জানান, ১১টি জাতীয় দৈনিক, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়া, শাখা সংগঠনের প্রতিবেদন ও অপ্রকাশিত ঘটনার ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হক কামাল, মহাসচিব লিটন এরশাদ, উপদেষ্টা মো. হামিদ, ড. আইয়ুবুর রহমান খান, ব্র্যাকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম খালিদ মাহমুদ, জিএইচএআই র কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ড. শরীফুল আলম, সিআইপিআরবির ডিরেক্টর ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে ২০২২ সালের সড়ক দুর্ঘটনাবিষয়ক প্রতিবেদন তুলে ধরেন নিসচার চেয়ারম্যান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। ছবি : প্রবা

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে সড়ক, নৌ ও রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ২৪টি। এর মধ্যে সড়কপথে ঘটেছে ৫ হাজার ৭০টি, নৌপথে ঘটেছে ৭৭টি, রেলপথে ঘটেঠছে ২৫৬টি, অপ্রকাশিত তথ্য ও হাসপাতালে ভর্তির পর এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মৃত্যু (আনুমানিক ৩০ শতাংশ) ঘটেছে ১ হাজার ৬২১টি।

এতে বলা হয়, এসব দুর্ঘটনায় মোট নিহত হয়েছেন ৮ হাজার ১০৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৯ হাজার ৭৮৩ জন। এর মধ্যে সড়ক পথে মারা গেছেন ৫ হাজার ৭৬০ জন, আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৩৩১ জন। রেলপথে মারা গেছেন ২৭০ জন, আহত হয়েছেন ৫১ জন৷ নৌপথে মারা গেছেন ২০৪ জন, আহত হয়েছেন ১৪৪ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ১৮৬ জন। অপ্রকাশিত তথ্য ও হাসপাতালে ভর্তির পর এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর নিহত হয়েছেন (আনুমানিক ৩০ শতাংশ) ১ হাজার ৮৭০ জন। আহত হয়েছেন ২ হাজার ২৫৭ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক, নৌ ও রেলপথে দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে পুরুষ ছিলেন ৫ হাজার ২৪২ জন এবং নারী ছিলেন ৯৯২ জন। পুরুষ আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৩২ জন এবং নারী আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৯৪ জন। এছাড়া যানবাহনের ধরন অনুযায়ী চালক ও চালকের সহকারী নিহত হয়েছেন ২ হাজার ১৮৮ জন।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ 

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কিছু বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছে নিসচা। 

সংস্থাটি জানিয়েছে, সুষ্ঠু  ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের অভাব, টাস্কফোর্সের দেওয়া ১১১টি সুপারিশনামা বাস্তবায়ন না হওয়া, চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা, দৈনিক চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানো, লাইসেন্স ছাড়া চালক নিয়োগ, মোটরসাইকেল চালকদের বেপরোয়া চালনা এবং মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, সড়ক, মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কে গতিসীমা নির্ধারণ না করা, চালকদের মাদকাসক্তি, পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব, বিপজ্জনক ওভারটেকিং ও ওভারলোডিং করা, বিরতি ছাড়াই দীর্ঘসময় ধরে গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো বন্ধে আইনের প্রয়োগ না থাকা, সড়ক-মহাসড়কে বৈধ ও অবৈধ গাড়ি বৃদ্ধি (বিশেষ করে দুই চাকার যানবাহন), মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, একই রাস্তায় বিভিন্ন গতির যানবাহন চলাচল, রাস্তার পাশে হাটবাজার ও দোকানপাটের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে।

এছাড়া সব ধরনের যানবাহনে অশিক্ষিত ও অদক্ষ চালক, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৮ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনারোধে নানা সুপারিশ 

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর পুরোপুরি বাস্তবায়নের পাশাপাশি মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ তত্ত্বাবধানে উচ্চ পর্যায়ের মনিটরিং সেল গঠনের দাবি জানিয়েছে নিসচা। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের  (ডিএসসিসি) উদ্যোগে পরীক্ষামূলক একটি রুটে ইতোমধ্যে রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় (ঘাটারচর-গুলিস্তান-মতিঝিল হয়ে সাইনবোর্ড-কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত) চালু করা হয়েছে গণপরিবহন সার্ভিস। এই সার্ভিস ঢাকা সিটি ও ঢাকার আশপাশে যত দ্রুত সম্ভব চালুর দাবি জানান আলোচকরা।

তারা বলছেন, পথচারী ও চালকদের সড়ক আইন মানতে বাধ্য করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জরুরি। এছাড়া দেশের সব মহাসড়ক এবং প্রধান সড়ককে অবশ্যই ন্যূনতম চার লেনে উন্নীত করতে হবে। 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা