প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:২৫ পিএম
আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:০১ পিএম
আদানি পাওয়ার লিমিটেডের বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ (বামে)। ভারতের ঝাড়খন্ডের গাড্ডায় ৩ জানুয়ারি। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের ঝাড়খন্ডের আদানি গ্রুপের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মার্চ থেকে বাংলাদেশে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হবে। মঙ্গলবার ( ৩ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। ভোক্তা পর্যায়ে আমদানিকৃত বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি খরচ পড়বে ২০ থেকে ২২ টাকা, যা দেশের বর্তমান দামের প্রায় দ্বিগুণ।
মঙ্গলবার ভারতের পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ঝাড়খন্ডের গাড্ডায় আদানি পাওয়ার লিমিটেডের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিদ্যুৎ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। অন্যদের মধ্যে তার সফর সঙ্গী ছিলেন জ্বালানি সচিব হাবিবুর রহমান ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদানির ঝাড়খন্ডের কেন্দ্র থেকে মার্চ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা সম্ভব হবে। এ কেন্দ্র থেকে প্রাথমিকভাবে আমরা ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাব।’
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী গ্রীষ্মে আমাদের চাহিদা মেটাতে আরও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এ জন্য আমরা বিকল্প উৎসের সন্ধানে রয়েছি। সুলভমূল্যে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করাই আমাদের অগ্রাধিকার। এ জন্য আমরা কাজ করছি।’
ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে ইতোমধ্যে একটি ডেডিকেটেড ট্রান্সমিশন লাইনের কাজ শেষ হয়েছে। চাপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়ায় দুটি উপকেন্দ্র ও ট্রান্সমিশনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বাংলাদেশের বেসরকারি সংবাদ সংস্থা ইউএনবিকে বিপিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঝাড়খন্ডের আদানির ওই কেন্দ্র থেকে আমরা যে বিদ্যুৎ আমদানি করব, তার দাম পড়বে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রর প্রায় দ্বিগুণ। ফলে আদানির ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পূর্ণমাত্রায় ১৬ শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করলে বাংলাদেশেকে মাসে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে। চুক্তির দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশেকে এই লোকসন দিতে হবে বলে মনে করেন বিপিডিবির ওই কর্মকর্তা।
২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে ঝাড়খন্ডে ওই কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার চুক্তি করে বাংলাদেশ। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট দৈনিক ৮০০ করে মোট ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। আদানি গ্রুপের কর্ণধার গৌতম আদানি ভারতের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি।