প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
মৌলভীবাজার সদর ও শ্রীমঙ্গলে পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ করেন এবং ঢাকা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজও বিক্ষোভ করছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
পরীক্ষা শেষে বুধবার দুপুর থেকে ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি এবং মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি ‘অবমাননাকর’ মন্তব্যের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
উত্তরা ও সায়েন্স ল্যাব
পরীক্ষা শেষ হওয়ার বুধবার দুপুরে পর উত্তরার বিএনএস সেন্টারের কাছে জড়ো হতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, “একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তা দখল করে নিলে যান চলাচল পুরোপুরি ব্যাহত হয়”।
শিক্ষার্থীদের এই অবরোধের কারণে বিএনএস সেন্টার, আজমপুর, জসীমউদ্দীন ও এর আশপাশের সড়কগুলোয় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রীকে বাস ও অন্যান্য যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
নারয়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন। পরে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় হাতে পরীক্ষা সামগ্রী নিয়েই বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি চাষাঢ়া থেকে দুই নম্বর রেলগেট হয়ে বঙ্গবন্ধু সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার চাষাঢ়ায় এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রীর ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্য শিক্ষার্থীদের অপমান করেছে।
তারা বলেন, এমন মন্তব্যের নৈতিক দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের দাবিও জানান তারা।
সরকারি তোলারাম কলেজের পরীক্ষার্থী ও জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আল রাজ বলেন, “আমাদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন না। শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন চাই। শিক্ষার্থীদের অবমাননা করে দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার শিক্ষামন্ত্রীর নেই”।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) শামীম হোসাইন জানান, পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা সড়কে নামলেও পরে তাদের বুঝিয়ে দিলে তারা সড়ক ছেড়ে মিছিল করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।
বরিশাল
এদিকে বরিশালে দুপুর ২টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বিআরটিসি বাস ডিপোর সামনে থেকে পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থী আদনান হোসেন বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও বৃহৎ আকার ধারণ করবে”।
আরেক পরীক্ষার্থী তন্ময় অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে মন্তব্য করায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
শিক্ষার্থী হুমায়রা বলেন, “ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনার বিচার চান তারা”।
একই সঙ্গে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান তাদের ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন। তারা উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বোর্ডের পক্ষ থেকে তাদের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে”।
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বোর্ড এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মৌলভীবাজার
অন্যদিকে মৌলভীবাজার সদর ও শ্রীমঙ্গলে পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ করেন এবং ঢাকা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ থাকায় দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক, দাবি এক, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’, ‘ভুয়া-ভুয়া, শিক্ষামন্ত্রী ভুয়া’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
তাদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও পরীক্ষা অব্যাহত রাখা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তারা শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনাকে প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানান।
বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ঢাকা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।