প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের লোগো। ফাইল ছবি
সরকারের কাছে নিজস্ব স্থায়ী সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা ও জনবল বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ। সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) গাজী জসীম উদ্দিনের বরাত দিয়ে বাসস বুধবার (১৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এআইজি জসীম বাসসকে বলেছেন, ‘দেশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পখাতে কার্যকর নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এ দুটি বিষয়ই অপরিহার্য।’
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশেষায়িত বাহিনীটি রাজধানীর উত্তরায় ভাড়া করা ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদিও এ সময়ের মধ্যে তাদের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। জসীম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের নিজস্ব কোনো সদর দপ্তর নেই। বাহিনীর কার্যক্রম আরও দক্ষ ও গতিশীল করতে এবং বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে এখন স্থায়ী সদর দপ্তর অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’
এ ছাড়া জনবল সংকটও বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে তিনি জানান। ফলে শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শ্রমসংক্রান্ত ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুমোদিত জনবল চার হাজার ২০০ জন। অথচ কর্মরত রয়েছেন প্রায় তিন হাজার ৪৭০ জন। দেশজুড়ে শিল্প এলাকার দ্রুত সম্প্রসারণের কথা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর শিল্প নিরাপত্তা ও শ্রম আইন প্রয়োগের জন্য আরও জনবল প্রয়োজন।’
অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জানান, কার্যক্রম আরও জোরদার করতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে পৃথক পুলিশ লাইনস স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। সে জন্য ইতোমধ্যে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং স্থাপনার নকশা তৈরি করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
বাসসের তথ্যমতে, শিল্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শ্রমিক ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং উৎপাদনবান্ধব স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্প পুলিশের ৯টি ইউনিট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে কাজ করছে চারটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিট।
কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের শিল্পখাত ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ছয় হাজার তৈরি পোশাক কারখানাসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন। তাদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পের নেতৃত্বে এ খাত থেকে বছরে আনুমানিক ৫৫ থেকে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হচ্ছে। ফলে শিল্প পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে সজ্জিত করা সময়ের দাবি।
এআইজি জসীম উদ্দিন মনে করেন, অবকাঠামো জোরদার ও জনবল বাড়ানো হলে শ্রম বিরোধ মোকাবিলায় বাহিনী আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, শিল্প সম্পদ রক্ষা এবং শ্রমিক ও বিনিয়োগকারী উভয়ের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে পারবে।