বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২১ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামে বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে দেশের ৩৩ জেলার ১২০টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে।
এতে প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৭৪ কোটি এবং মৎস্য খাতে প্রায় ৩৬৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম, কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমসহ একাধিক জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সোমবারের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণিসম্পদ খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার ৩৬টি উপজেলায়। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার সাতটি উপজেলা, খুলনা বিভাগের তিন জেলার চারটি উপজেলা এবং ঢাকা বিভাগের নরসিংদী জেলার একটি উপজেলায় আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে বন্যায় ৪৬টি গরু, ১২৩টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া, ১ লাখ ১১ হাজার ১৫২টি মুরগি এবং ১ হাজার ৫৭৫টি হাঁস মারা গেছে। সব মিলিয়ে প্রাণহানি হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৩৬টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪ হাজার ৫৫৬টি গবাদিপশুর খামার এবং ৬ হাজার ৬০টি হাঁস-মুরগির খামার। এ খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৩ কোটি ৯৯ লাখ ৫৬ হাজার ৫৪০ টাকা।
মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে বন্যায় ৩৩ হাজার ৯২০টি পুকুর, দিঘি, ঘের ও খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৪৯৮ হেক্টর জলাশয়। এতে প্রায় ১২ হাজার ৪৩ মেট্রিক টন মাছ, ১ হাজার ৪৪৯ মেট্রিক টন চিংড়ি এবং ১ হাজার ৮৫৭ লাখ মাছের পোনা নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচজন জেলে নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩০টি নৌকা ও ট্রলার এবং ২২০টি মাছ ধরার জাল। অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে মৎস্য খাতে মোট আনুমানিক ক্ষতি প্রায় ৩৬৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিয়মিত কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমে পাঠাতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কৃষক ও খামারিদের সচেতন করতে অনলাইন ও অফলাইনে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহ উদ্দীন টুকু বলেন, সরকার বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষ ও তাদের জীবিকার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম, ওষুধ, পশুখাদ্য এবং কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বন্যা-পরবর্তী সময়ে প্রাণিসম্পদে রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই টিকাদান, কৃমিনাশক প্রয়োগ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং খামারের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।