প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৩:৩২ পিএম
আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৪:৫৫ পিএম
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনেও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: ভিডিও থেকে
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধনের অভিযোগ তুলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল থেকে সায়েন্সল্যাব মোড়, শাহবাগ, উত্তরা ও মিরপুরসহ কয়েকটি স্থান অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রাম
একই সময়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনেও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বগুড়া
এ ছাড়া বগুড়া শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে পরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শহরের সাতমাথা এলাকায় মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা সাতমাথা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে যান। সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলছিল।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের তিন দফা দাবি হলো, দেশের দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সোমবারের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থানরত কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, তাদের প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করছে। দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে আশ্বাস না পেলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বরিশাল
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবীতে ঢাকা বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীরা। এতে করে কয়েক কিলোমিটার পথে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও দাবী আদায়ে অনড় পরীক্ষার্থীরা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেয়।পরে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে।
এদিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ থেকে অভ্যন্তরীন ১৪ রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকার পাশাপাশি বরিশাল থেকে দূরপাল্লার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বিক্ষোভস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা রয়েছে জানিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি জানানান, শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে তারা আমাদের কথা শোনেনি। তারা তাদের আন্দোলন অব্যহত রেখেছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের ফোর্স সেখানে রয়েছে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুষ্ঠানস্থলের পাশে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
সকালে সায়েন্সল্যাবে আন্দোলন শুরুর পর ক্যাম্পাসে আসেন তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিপুল সদস্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আশপাশে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন।
বিক্ষোভে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল এবং প্রশ্নের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
যদিও গতকাল সোমবার রাতে বোর্ড এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চলমান এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে কোনো ভুল থাকলে পুরো নম্বর দেওয়া হবে।
এতে বলা হয়, পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ওঠা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পর্যালোচনায় যদি সংশ্লিষ্ট কোনো প্রশ্নে ত্রুটি বা অসংগতি প্রমাণিত হয়, তবে প্রচলিত মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের প্রধান তিনটি দাবি হলো পরীক্ষা নেওয়ার উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নের ভুলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নম্বর দেওয়া এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করা।
এসব দাবি মেনে না নেওয়া হলে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।