সংসদের প্রেস গ্যালারি থেকে
আত্রাই মডেল মসজিদ। ছবি: ফেসবুক থেকে
মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে ২১ কোটিতে কীভাবে পৌঁছেছে, তা মসজিদভিত্তিক তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, “তদন্তে প্রয়োজন হলে সরকারের অন্যান্য সংস্থার সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখা হবে”।
জাতীয় সংসদে সোমবার নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসাইনের (কায়কোবাদ) পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “বিগত ১৬ বছরে মডেল মসজিদ নির্মাণে ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে ২১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক মসজিদে নির্মাণগত ত্রুটি রয়েছে। তার নির্বাচনি এলাকা সেনবাগের মডেল মসজিদে পানি পড়ায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না”।
তিনি এ বিষয়ে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, “তার নির্বাচনি এলাকার দুর্গাপুরের মডেল মসজিদেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। মসজিদে যেতে একটি সেতুর প্রয়োজন হওয়ায় স্থানীয়রা সেটিকে ‘তাজমহল’ নামে ডাকেন”।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল”।
ইসলামের নামে ও মসজিদের নামে যা করা হয়েছে, তা গর্হিত। তবে তিনি বলেন, মডেল মসজিদ একটি ভালো উদ্যোগ হলেও প্রকল্প ব্যয়ের প্রাক্কলন যথাযথ ছিল কি না, তা যৌক্তিকভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, “অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের প্রকাশিত শ্বেতপত্রে মেগা প্রকল্পে বড় বাজেটের মাধ্যমে দুর্নীতির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। তাই প্রতিটি মডেল মসজিদের ব্যয় পৃথকভাবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে”।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তির পরিমাণ ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ দশমিক ৯৮ একর। এর মধ্যে অবৈধ দখলমুক্ত করে এ পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৫৩ একর ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে।
ভেজাল ও নকল ওষুধ প্রতিরোধে অভিযান
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, নকল ও ভেজাল ওষুধের বাজারজাতকরণ রোধে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) নিয়মিত মোবাইল কোর্ট, ফার্মেসি ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন এবং ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করছে। সংগৃহীত নমুনা সরকারি পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে মান যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় যৌথ অভিযানও চলছে। এর ফলে দুর্গম এলাকার অবৈধ ও অননুমোদিত ওষুধ কারখানাগুলোও নজরদারির আওতায় এসেছে”।
লালদিয়াচর চুক্তি বহাল থাকবে
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়াচর কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে করা কনসেশন চুক্তি বাতিল বা পুনঃচুক্তির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই”।
তিনি বলেন, “সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে”।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে প্রায় ৮ হাজার ২০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার কন্টেইনারবাহী মাদার ভেসেল এবং ১ লাখ ডেডওয়েট টনের জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে।
মানসিক রোগীর ৯২ শতাংশ চিকিৎসার বাইরে
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯ অনুযায়ী দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। তবে আক্রান্তদের ৯২ শতাংশেরও বেশি কোনো চিকিৎসাসেবা পান না।
তিনি বলেন, “দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন। সরকারি খাতে নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জন”।
এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা
সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে ৯ হাজার ৪০৭টি পদ শূন্য। নার্সের অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৮৭৯টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৪৫ হাজার ৩০২ জন; শূন্য রয়েছে ৪ হাজার ৫৭৭টি পদ।
তিনি বলেন, “এ ঘাটতি পূরণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দ্রুত এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে”।
ধর্মীয় উগ্রবাদ প্রতিরোধে নতুন প্রকল্প
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার লিখিত প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার কিছু অংশে তরুণদের ধর্মীয় উগ্রবাদ, অপপ্রচার ও সামাজিক বিভাজন থেকে দূরে রাখতে স্থানীয় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে ভিত্তি করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে স্থানীয় আলেম, ওলামা, ইমাম ও খতিবদের অংশগ্রহণে জুমার খুতবা, ধর্মীয় সেমিনার ও সম্প্রীতি সভার আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে”।