× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে শতাধিক ওসিকে

তোফাজ্জল হোসেন কামাল

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১০:৪১ এএম

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৫:২৬ পিএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহুল আলোচিত ‘রাতের ভোট’-এ দায়িত্ব পালনকারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পর্যায়ের শতাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এবার প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ওই নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বাধ্যতামূলক অবসর, ওএসডি ও সম্পদের অনুসন্ধানসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এবার মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে থাকা ওসিদের ভূমিকা পর্যালোচনায় মনোযোগ দিয়েছে সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় প্রাথমিকভাবে শতাধিক ওসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় দায়িত্বে থাকা দেশের ৬৪ জেলার থানা এবং তৎকালীন ছয়টি মহানগর পুলিশের ওসিদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের বর্তমান পদায়ন, পদমর্যাদা, চাকরির অবস্থা এবং প্রশাসনিক অবস্থান যাচাই-বাছাই চলছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ সদর দপ্তর সেসময় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ পরিদর্শকদের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ওই নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে সবচেয়ে কার্যকর প্রশাসনিক দায়িত্ব ছিল ওসিদের হাতে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি এসপি ও পুলিশ কমিশনারদের নির্দেশে ভোটের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরার কাজে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, এ কাজে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের কাছ থেকে এসপি-পুলিশ কমিশনারদের পাশাপাশি ওসিরাও নগদ সুবিধা গ্রহণ করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ পরিদর্শকদের বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে অবসরে চলে গেছেন। অনেকে অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, আবার নানা কারণে অনেকের পদোন্নতি আটকে আছে।

সরকার ইতোমধ্যে ওই নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকারী ৩৩ জন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। সরকারি আদেশে ‘জনস্বার্থে’ অবসরের কথা বলা হলেও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচনে বিতর্কিত ভূমিকার কারণেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার থানা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও পর্যালোচনায় এলেন। তবে রাতের ভোটে মুখ্য ভূমিকা পালন করা বেশ কয়েকজন এসপির বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যাদের অনেকেই বর্তমানে পলাতক জীবনযাপন করছেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছিল, ভোটের আগের রাতেই বহু কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয় এবং নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়। তৎকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলেও ‘রাতের ভোট’ শব্দটি দেশের রাজনৈতিক অভিধানে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনেও এর সত্যতা মেলে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতেই সারা দেশে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরে রাখা হয়েছিল। রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৩টা পর্যন্ত এই সিল মারা চলে। ওই নির্বাচনে ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ, ১২২টি কেন্দ্রে ৯৯ শতাংশ বা তার বেশি এবং ৭ হাজার ৬৮৯টি কেন্দ্রে ৯০ থেকে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে একতরফা ও বিতর্কিত এ নির্বাচন নিশ্চিত করা হয়।

এসব অনিয়মের পাশাপাশি বিপুল আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও উঠে এসেছে। পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা গেছে, রাতের ভোট সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন ক্যাডারদের পেছনে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থের একাংশ কয়েকটি খাতে যাওয়ার পর উদ্বৃত্ত টাকা আওয়ামী লীগ নেতারা আত্মসাৎ করেছেন।

দুদক ও এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, রাতের ভোটের কারিগরদের ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে তালিকা তৈরি করে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা