স্টার্টআপ নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বাসস
তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল সাড়ে ৯টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া এই অনুষ্ঠানেই তিনি জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্লাটফর্ম উদ্বোধন করবেন। ডিজিটাল এই প্লাটফর্ম উদ্যোক্তাদের জন্য জাতীয় পর্যায়ের একটি লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে।
এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সরকারি সহায়তা কর্মসূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা এক জায়গা থেকেই জানতে ও গ্রহণ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়বে এবং দেশে আরও কার্যকর স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। সভাপতিত্ব ও সমাপনী পর্বে বক্তব্য দেবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
উদ্বোধনী পর্বে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন, সফল উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, স্টার্টআপ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মুক্ত আলোচনা এবং নির্বাচিত স্টার্টআপের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হবে। উদ্বোধনী পর্ব শেষ হওয়ার পর দুপুর ১টা থেকে অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
১ আগস্ট সপ্তাহব্যাপী ‘ঢাকা উৎসব’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা পৌরসভার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী ‘ঢাকা উৎসব’। ‘হৃদয়ে ঢাকা’ শিরোনামে আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নগরজীবনের নানা দিক তুলে ধরতেই এ আয়োজন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে সোমবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ঢাকা শুধু একটি শহর নয়, এটি শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক। নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ঐতিহ্য পৌঁছে দিতেই আমরা ‘ঢাকা উৎসব’-এর আয়োজন করছি। প্রধানমন্ত্রী উৎসবের উদ্বোধনে সম্মতি দিয়েছেন।
তিনি জানান, ৩১ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। উৎসবের সূচনা হবে ৩১ জুলাই ‘ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র্যালি’ এবং ঐতিহ্যবাহী ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’র মাধ্যমে। শোভাযাত্রায় হাতি, ঘোড়া, ঘোড়ার গাড়ি, পালকি, রিকশা ও ভিনটেজ গাড়িসহ পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নানা অনুষঙ্গ স্থান পাবে।
১ আগস্ট সকালে ম্যারাথনের আয়োজনের পর বিকাল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের উদ্বোধন করবেন। ২ আগস্ট লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব, রাজধানীর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আড্ডা এবং সন্ধ্যায় কাওয়ালি পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। ৩ আগস্ট খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ।
এ ছাড়া ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরনো চলচ্চিত্র মধুমিতা সিনেমা হলে প্রদর্শন, বাংলাদেশ টেলিভিশনে ঢাকাকেন্দ্রিক নাটক ও বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার, শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চনাটক, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ‘লাভ লেটার টু ঢাকা’, আর্ট ক্যাম্প এবং সদরঘাট থেকে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী নৌযানে হেরিটেজ ক্রুজের আয়োজন থাকবে।
উৎসব উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে ‘দ্য গ্রেট ঢাকা সেল’-এরও আয়োজন করা হবে। এ সময় অংশগ্রহণকারী বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের জন্য কমপক্ষে ১০ শতাংশ মূল্যছাড় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।