নূরুল ওয়াহিদ, স্পেন থেকে
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ ০৮:৪২ এএম
আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬ ০৯:০১ এএম
গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশির বৈধকরণ সুযোগকে নিজের আখের গোছানোর কাজে ব্যবহার করেছেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান। দূতাবাসকে দালালের আখড়ায় পরিণত করে প্রায় ৬ হাজার আবেদনকারীকে অনলাইনে ক্লিয়ারেন্স না দিয়ে দূতাবাস থেকে ক্লিয়ারেন্স দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা সমমূল্যের ইউরো। তার এ অপকর্মে সঙ্গী হয়েছেন দূতাবাসের অ্যাকাউন্ট্যান্ট ইসমত আরা ও অননুমোদিত স্টাফ জাফরের নেতৃত্বে দালালচক্র। সরকারের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা এসব অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে প্রতিবেদন দিলেও এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।
স্পেন সরকারের অভিবাসন নীতিমালার আওতায় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের পূর্বে স্পেনে আগত অবৈধ অভিবাসীদের বৈধকরণের সুযোগ দেয়। এর ফলে স্পেনে অবস্থানরত প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের বৈধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এই আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য বাংলাদেশ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়। এপ্রিল মাস থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পেনে দুটি টিম পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য একটি, আরেকটি পাসপোর্ট ইস্যু-রিইস্যুর জন্য। অভিযোগ উঠেছে, স্পেনের রাষ্ট্রদূতের অসহযোগিতার কারণে পাসপোর্টের টিমটি স্পেনের ভিসা পায়নি। গত ৮ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্পেনে যায়। তারা ২০ মে পর্যন্ত ১২ দিনে মোট ২,২৪৯ জন নাগরিককে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত সেবা দেয়। একই সঙ্গে ভুল তথ্যসংবলিত আবেদন সংশোধন করে নির্ভুল সনদ দেয় এবং নোটারি ও ই-অ্যাপোস্টিল সম্পর্কে পরামর্শ দেয়।
স্পেনে বাংলাদেশিদের বৈধ হওয়ার এই সুযোগ সম্পর্কে অবহিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে তিনি নানা নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই নির্দেশনার পরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আবেদনকারী বাংলাদেশিরা যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হন এবং দ্রুত সময়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পান তার উদ্যোগ নেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ব্যবস্থা করায় ৩০ জুন আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ১২ হাজার আবেদনকারীকে অনলাইনে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর বাইরে অফলাইনে দূতাবাসে আবেদন করে আরও ৬ হাজার আবেদনকারী পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়েছেন। এই আবেদনকারীরাই ছিলেন দূতাবাসের মূল লক্ষ্য। তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আদায় করা হয়েছে। এমনকি আবেদনকারীদের কাছ থেকে কয়েক দফায় অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।
অনলাইনে আবেদন ফি মাত্র ২৫ ইউরো যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ হাজার ৩৮২ টাকা। অফলাইনে দূতাবাসে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ ইউরো আদায় করা হয়েছে। পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে কারও কারও কাছ থেকে এক থেকে দুই হাজার ইউরো আদায় করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল স্পেনে গিয়েছিল তারা দেশে ফিরে একটি গোপনীয় প্রতিবেদন দেয়। যাতে রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান, অ্যাকাউন্ট্যান্ট ইসমাত আরা ও দূতাবাসের অননুমোদিত স্টাফ ইসমাত আরার স্বামী জাফরের সম্মিলিত একটি সিন্ডিকেটের বিষয় উল্লেখ করা হয়। এই সিন্ডিকেটকে পেছন থেকে পরিচালনা করেছেন রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী।
ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনহয়রানির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের বিগত সময়ের পোস্টিং, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘স্পেনে কর্মরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের বৈধকরণের একটি সময়সীমাবদ্ধ ও জনবান্ধব সুযোগ পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃত দীর্ঘসূত্রতা, অনলাইন সেবা নিরুৎসাহিতকরণ এবং দালালনির্ভর অফলাইন প্রক্রিয়ায় বাধ্য করার ফলে প্রবাসীরা আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।’
প্রতিবেদনে রাষ্ট্রদূতের অসহযোগিতা এবং দূতাবাস সেবা প্রদানের বিলম্বকে রাষ্ট্রদূতের ক্ষমতার অপব্যবহারে পরিচালিত একটি সংগঠিত দুর্নীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যা প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকের বৈধকরণ সরাসরি ঝুঁকিতে ফেলেছে। এ ছাড়া আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য দালাল চক্রের কাছে পাচার; পুলিশ পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জনপ্রতি ৭০-৮০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়-তথ্য সুরক্ষা ও নাগরিক নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন।
গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া সুপারিশে রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমানের ভূমিকা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যালোচনা ও তদন্তের আওতায় আনা এবং বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। অ্যাকাউন্ট্যান্ট ইসমত আরা ও অননুমোদিত ব্যক্তি জাফরের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দূতাবাসের সেবা থেকে সকল অননুমোদিত ব্যক্তিকে অপসারণ। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও পাসপোর্ট প্রদান প্রক্রিয়া দূতাবাসের একক নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে কেন্দ্রীয় তদারকির আওতায় আনা। অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয়করণ ও ব্যাপক প্রচার নিশ্চিত করা। ই-অ্যাপোস্টিল প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে ও অবশিষ্ট বৈধকরণ সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ। বর্তমান সরকারের জনবান্ধব উদ্যোগ বাধাগ্রস্তকরণের দায় নির্ধারণপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশমালা বাস্তবায়ন না করলে প্রবাসীদের মধ্যে সরকারের প্রতি অসন্তোষ গভীর হবে এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও কূটনৈতিক স্বার্থ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন
স্পেনে বাংলাদেশের দূতাবাসকে ঘিরে প্রশাসনিক অনিয়ম, নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব, কনস্যুলার সেবায় দুর্বলতা এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যৌথ চিঠি দিয়েছেন ১৩৮ জন বাংলাদেশি প্রবাসী। তাদের দাবি, দূতাবাসের কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্পেনে প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ
রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি নাইজেরিয়ায় হাইকমিশনার, বেইজিংয়ে মিনিস্টার ও ডেপুটি চিফ অব মিশন, দুবাইয়ে কনসাল জেনারেল, টোকিওতে কাউন্সিলর, মানামা ও মস্কোসহ অন্যান্য মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। দুবাইয়ে কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির কারণে তাকে ক্লোজড করা হয়েছিল।
২০২২ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত তার কাব্যগ্রন্থ ‘রক্তকলমে একশ কবিতা’র শুরুতে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উৎসর্গকৃত ১২টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে ধারাবাহিক গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন, পূর্ববর্তী দুর্নীতির ইতিহাস এবং বর্তমান সরকারের প্রবাসীবান্ধব উদ্যোগে অসহযোগিতা এসব তথ্য তার বর্তমান ভূমিকা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগে রাষ্ট্রদূতের বাসভবন নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান দীর্ঘদিনের বাংলাদেশ হাউসে না থেকে অন্য একটি বাসভবনে ওঠেন যার ব্যয় তুলনামূলক বেশি। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়েছে। মূলত রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী দিলমাত আরা মাসুদের বাংলাদেশ হাউস পছন্দ না হওয়ায় অধিক খরচে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার অভিযোগ আছে।
গত দেড় বছরে বাড়ির কাজের লোক পরিচয়ে তিনি তিনজনকে বাংলাদেশ থেকে স্পেনে নিয়ে যান। এদের মধ্যে আজিজ নামে একজন সেখান থেকে অন্যত্র পালিয়ে গেছেন। মামুন ও জুয়েল নামে বাকি দুজন এখনও স্পেনে আছেন। তাদের ক্লিনার ও মালির চাকরি দেওয়া হয়েছে। আইনত এদের বেতন দেওয়ার কথা মাসুদুর রহমানের নিজস্ব অর্থ থেকে। কিন্তু সেটা না করে প্রতিজনকে ১ হাজার ১৫০ ইউরো করে বেতন দেওয়া হচ্ছে দূতাবাসের ফান্ড বা তহবিল থেকে।
নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
দূতাবাসের কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে না থেকেও দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন জাফর ইকবাল। তিনি দূতাবাসের অ্যাকাউন্ট্যান্ট ইসমাত আরার স্বামী। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই রাষ্ট্রদূত ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর জাফর ইকবালকে কনস্যুলার সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। বিষয়টি অবৈধ হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে বাদ দেওয়া হয়। প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি সুপারিশপত্রে দেখা যায়, দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি দুই বছর স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জাফর ইকবালকে নিয়োগের সুপারিশ করেছিলেন। তার নামে একটি অফিশিয়াল পাসপোর্ট কার্যকর থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের জুনে একটি সাধারণ পাসপোর্টও ইস্যু করা হয়। যা দিয়ে তিনি স্পেনে বৈধ হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
ইসমত আরার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
দূতাবাসের দালালচক্রের অন্যতম হোতা প্রশাসনিক কর্মকর্তা (অ্যাকাউন্ট্যাস) ইসমত আরা বেগম পূর্বে মালয়েশিয়ায় দূতাবাসে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির কারণে ক্লোজড হয়েছিলেন এবং বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন। তার স্বামী জাফর ইকবাল দূতাবাসের কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না হয়েও বৈধকরণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন যা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
জাফরই মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল) থেকে দূতাবাসে পাঠানো একটি ই-মেইলে ইসমত আরা বেগম ও জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে দুই কোটির বেশি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। ই-মেইলে বলা হয়েছে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং অর্থ পুনরুদ্ধারের স্বার্থে দূতাবাসের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মেয়ের আবেদন
রাষ্ট্রদূতের মেয়ে নিহন আনান রহমানের নামে এবছর ৩ জুন বাংলাদেশ থেকে একটি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। ওই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিয়ে তিনিও স্পেনে বৈধ হওয়ার সুযোগ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। কূটনীতিকের মেয়ের এই আবেদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বলা হচ্ছে, এই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স গ্রহণে বিদ্যমান আইন ও বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
দূতাবাসের বক্তব্য
প্রতিবেদন প্রকাশের আগে রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। ইসমত আরা বেগম ও জাফর ইকবালের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। তাদের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক নানা অভিযোগ সম্পর্কে গত ৬ জুলাই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস বলেছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কমিউনিটিভিত্তিক কিছু পোর্টালে দাবি করা হচ্ছে, দূতাবাসের সমন্বয়হীনতার কারণে প্রবাসী অভিবাসীদের কেউ কেউ ৩০ জুনের আগে স্পেনের বিশেষায়িত নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে পারেননি। বাস্তবতা হচ্ছে, দূতাবাস পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, আইন মন্ত্রণালয়, এটুআই প্রজেক্ট এবং পুলিশ প্রশাসন একযোগে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশেষ করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ই-অ্যাপস্টিল করে সেবাপ্রার্থীদের যথাসময়ে সব সেবা সমাপ্ত করেছে। নতুন পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট রিইস্যুর ক্ষেত্রে রিওয়ার্ক প্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও দূতাবাস আবেদনকারী সবাইকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে পেরেছে। এই প্রক্রিয়ায় দূতাবাস কমিউনিটির সবার উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা মাথায় নিয়ে যথাযথভাবে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের যথাসময় জানিয়েছে, যাতে সেবাপ্রার্থীরা ৩০ জুনের মধ্যেই তাদের সেবা পান। রাষ্ট্রদূতকে ঘিরে অপপ্রচারকে দুঃখজনক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকতে প্রবাসীদের অনুরোধ জানানো হয়।