প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাবা-সন্তানকে এমন একটি পরিবেশে একত্র করা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাবা-সন্তানের সম্পর্ক আরও গভীর ও অর্থবহ করে তোলার লক্ষ্যে বনানীর ফিকা (Fika)-তে অনুষ্ঠিত হয়েছে জিন (Zine) তৈরির একটি ব্যতিক্রমধর্মী কর্মশালা। অলাভজনক সামাজিক উদ্যোগ স্নেহন (Snehon) আয়োজিত ‘আওয়ার স্টোরি: এ সেলিব্রেশন অফ ফাদারহুড’ শীর্ষক এই কর্মশালায় অংশ নেন কয়েকটি পরিবারের বাবা-সন্তান জুটি, শিক্ষাবিদ এবং স্নেহনের সদস্যরা।
বৃষ্টিভেজা এক শান্ত সন্ধ্যায় আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে শেখেন কীভাবে একটি জিন ভাঁজ করে ছোট বই তৈরি করতে হয়। পরে সেই বইয়ের পাতাগুলো তারা নিজেদের গল্প, স্মৃতি, আঁকিবুঁকি, চিঠি ও শিল্পকর্মে সাজিয়ে তোলেন।
পুরো কার্যক্রমে সৃজনশীল দিকনির্দেশনা দেন সামিয়া রিনি আর্ট স্টুডিওর প্রতিষ্ঠাতা এবং জুনিয়র ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের চারুকলা শিক্ষক সামিয়া সাবিহা রিনি এবং স্কলাস্টিকা স্কুলের ও-লেভেল সাহিত্য শিক্ষক ও লেখক তাশফিয়া আহমেদ।
কর্মশালায় ছবি আঁকা, রং করা, গল্প বলা এবং একে অপরকে চিঠি লেখার মতো বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ফিকার প্রধান শেফ আবদুল্লাহর প্রস্তুত করা বিশেষ খাবার একসঙ্গে উপভোগ করেন অংশগ্রহণকারী পরিবার ও আয়োজকরা।
আয়োজকদের মতে, এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাবা-সন্তানকে এমন একটি পরিবেশে একত্র করা, যেখানে তারা একে অপরের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত হতে পারে, নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে, মনোযোগ দিয়ে একে অপরের কথা শুনতে পারে এবং অর্থবহ সময় কাটানোর মাধ্যমে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে।

স্নেহনের প্রতিষ্ঠাতা আফসানা আহমাদ বলেন, “বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেক পরিবারেই বাবা-মা ও সন্তানের একান্ত মানসম্মত সময় কাটানোর সুযোগ সীমিত। সে কারণেই স্নেহনের কর্মশালাগুলো এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে শিল্পচর্চা, হস্তশিল্প, খেলাধুলা ও গল্প বলার মাধ্যমে পরিবারগুলো একটি নিরাপদ, আনন্দময় ও আন্তরিক পরিবেশে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়”।
তিনি আরও বলেন, “আওয়ার স্টোরি স্নেহনের কার্যক্রমভিত্তিক বাবা-মা ও সন্তানের কর্মশালার প্রথম উদ্যোগ। ভবিষ্যতে সুস্থ শৈশব বিকাশকে উৎসাহিত করা এবং অভিভাবকদের এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করাই তাদের লক্ষ্য, যেখানে শিশুরা শিক্ষার পাশাপাশি আবেগিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিকাশেও সমান গুরুত্ব পাবে”।
আফসানা আহমাদের মতে, এই আয়োজন স্নেহনের পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর বিশ্বাস, ছোট ছোট অর্থবহ উদ্যোগের মাধ্যমেই পরিবার, সমাজ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সহানুভূতিশীল ও সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।