১৩ জুলাই
নতুন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং ঢাকায় গণপদযাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে ২০২৪ সালের এই দিনে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির পরিবর্তে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।
নতুন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং ঢাকায় গণপদযাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়।
১৩ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, ১৪ জুলাই বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে গণপদযাত্রা শুরু হবে। পদযাত্রা শেষে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সাত কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পদযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি পেশ করবেন।
এদিকে ১২ জুলাই রাতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দার চৌধুরী মামলাটি গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২১ জুলাই দিন নির্ধারণ করেন।
মামলার প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলনের অন্যতম মুখ নাহিদ ইসলাম বলেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, পুলিশ যদি ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ করে থাকে, তাহলে অজ্ঞাতনামা মামলা না করে সংশ্লিষ্টদের নামেই মামলা করতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আদালতের নির্দেশ ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, একটি কুচক্রী মহল আন্দোলন ঘিরে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।
এদিন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আন্দোলনকারীদের দাবিকে সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে রাস্তা অবরোধ না করে আন্দোলন থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ বলেন, আন্দোলনের নামে জানমালের ক্ষতি করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক হলেও সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। এদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা দিনব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আবাসিক হল ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ৩৮ সদস্যের নতুন সমন্বয়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ২৪ জন সমন্বয়ক এবং ১৪ জন সহসমন্বয়ক দায়িত্ব পান। এ ছাড়া ১৩ জুলাই বিকালে রাজবাড়ী রেলস্টেশনের সামনে শিক্ষার্থীরা রেললাইনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে ঢাকাগামী মধুমতী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।