প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১৯ ঘণ্টা আগে
রেকর্ড বৃষ্টিতে নাকাল জনজীবন। রাজধানীর রাজাবাজার এলাকায় তোলা। ছবি: আরিফুল আমিন
টানা দুই দিনের অতি ভারী বর্ষণে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। এতে অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন, বেড়েছে চরম ভোগান্তি।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ জানান, এর আগে ২০০৪ সালে রাজধানীতে এক দিনে সর্বোচ্চ ৩৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। সেই হিসেবে গত ২২ বছরের মধ্যে এটিই রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড।
ভারী বৃষ্টির ফলে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে তেজগাঁও, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, জিগাতলা, নিউ মার্কেট, বনানী, গুলশান, নিকুঞ্জ, বংশাল, নাজিরবাজার, সূত্রাপুর, চকবাজার এবং মিরপুরের মাটিকাটা ও ইসিবি চত্বর থেকে র্যাডিসন ব্লু হোটেল সংলগ্ন সড়কসহ রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় সড়ক উপচে পানি দোকানে ও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং অনেক দোকানপাট খোলেনি। সড়কে পানির কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এমনকি বৃষ্টির প্রভাবে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ তার দ্য ফিউচার ক্লাইমেট অব বাংলাদেশ শীর্ষক গবেষণার বরাত দিয়ে জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন আসছে। ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমে (জুন-সেপ্টেম্বর) অতি বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়বে। এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ দেশে গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে, যার প্রভাব উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দেখা যাবে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রবিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৩৩ ঘণ্টায় ঢাকায় ১১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ২০০৯ সালের ২৮ জুলাই ঢাকায় ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। তা ছাড়া ২০২৪ সালের ১২ জুলাই ১৩১ মি.মি, ২০১৩ সালের ২৭ জুলাই ১২২ মি.মি, এবং ২০০৮ সালের ৯ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি বলেন, জুন-জুলাই মাসে ঢাকায় স্বাভাবিকভাবে ৩৪০ ও ৩৭৩ মি.মি. বৃষ্টি হয়। জুনে দৈনিক স্বাভাবিক বৃষ্টি ১০ থেকে ১৬ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়। জুলাই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি ৫ থেকে ২৫ মি.মি পর্যন্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার অঞ্চলভেদে বৃষ্টির মাত্রা ৫ থেকে ১০ মি.মি কম বেশি হয়। আর বর্তমানে চলা বৃষ্টি মঙ্গলবার পর্যন্ত থাকবে। তারপর ১৪-১৬ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি কম থাকবে এবং ১৭ জুলাইয়ের আবার বাড়বে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসেবে বৃষ্টির পরিমাপকে ৫টি শ্রেণিতে মাপা হয়। তার মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় ১ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে হালকা, ১১-২২ মিলিমিটারকে মাঝারি, ২৩-৪৩কে মাঝারি ধরনের ভারী ৪৩-৮৮ ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে তাকে অতি ভারী বৃষ্টি হিসেবে বলা হয়।
এদিকে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোষাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাজাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজমান আছে।