১২ জুলাই
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ১২ জুলাই ছিল ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিন। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাপ্রবাহে ২০২৪ সালের জুলাই মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় ১২ জুলাই (শুক্রবার) ছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিন।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকে নতুন গতি দেন।
বিকাল ৪টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্লোগান ও ব্যানার নিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমবেত হন।
পরে বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে সেখান থেকে বিক্ষোভমিছিল বের হয়ে হলপাড়া, ভিসি চতুর ও রাজু ভাস্কর্য প্রদক্ষিণ করে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে পঞ্চমবারের মতো শাহবাগ মোড় অবরোধ করে।
আন্দোলনকারীরা সেখানে প্রায় আধাঘণ্টা অবস্থান করেন।
শাহবাগ অবরোধের পর বাংলা মোটরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে পুলিশের কড়া অবস্থান দেখা যায়।
আগের দিন পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে গেলেও এদিন আন্দোলনকারীরা শাহবাগের সীমানা অতিক্রম করেননি।
‘বাংলা ব্লকেড’-এর আগের কর্মসূচিগুলোতে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধ করা হলেও ১২ জুলাই কেবল শাহবাগেই কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করা হয়।
একই সময়ে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।
এর ফলে আন্দোলনটি রাজধানীকেন্দ্রিকতা ছাড়িয়ে দেশব্যাপী বিস্তৃত রূপ লাভ করে।
আন্দোলনের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ দিনে প্রতিনিধি সম্মেলনের ঘোষণাও দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু বাকের মজুমদার।
শাহবাগে কর্মসূচি শেষে তিনি জানান, ১৩ জুলাই (শনিবার) দেশের ৬৪ জেলা এবং সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে একযোগে অনলাইন ও
অফ লাইনে প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। একইদিন সন্ধ্যা ৬টায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে সংবাদ সম্মেলনের কথাও জানান তিনি।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, আগের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
পাশাপাশি সরকারের প্রতি আন্দোলনের একদফা দাবি দ্রুত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকার পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ নীলফামারী ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিক্ষোভ, মশাল মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।