নির্বাচন ভবন। ফাইল ছবি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ স্থাপনের নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে ভোটকক্ষ নির্ধারণের আগের নিয়ম সংশোধন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ভোটগ্রহণে চাপ কমাতে প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক গোপন কক্ষ (মার্কিং প্লেস) স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর পাশাপাশি আগামী ৩১ আগস্ট হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব (নির্বাচন সহায়তা-৩) মো. রশিদ মিয়ার বৃহস্পতিবার সই করা গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
আগে সাধারণ নির্বাচনে প্রতি ৪০০ জন পুরুষ এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারিত ছিল। তবে এখন প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ও ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ রাখা হবে বলেও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
উপনির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আগে একটি পদে ভোটগ্রহণের জন্য ৫০০ জন পুরুষ ও ৪০০ জন নারী ভোটারের বিপরীতে একটি ভোটকক্ষ বরাদ্দ থাকলেও এখন সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচন—উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ৬০০ জন পুরুষ এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ থাকবে।
তবে আগের নিয়ম বহাল রেখে ইসি জানিয়েছে, প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যে একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় একই ওয়ার্ডে একাধিক ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগও থাকবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময়সূচিও ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩১ জুলাই ২০০৮ বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী এবং ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত বা নিবন্ধন সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের হালনাগাদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আগামী ৪ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুতের কাজ শেষ হবে এবং ৯ আগস্ট খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের আবেদন গ্রহণ চলবে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত। আবেদন নিষ্পত্তি শেষে ২৮ আগস্ট সংশোধিত তথ্য সংযোজন করা হবে এবং ৩১ আগস্ট প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
এ ছাড়া খসড়া তালিকা জনসম্মুখে প্রদর্শন, মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রচারণা এবং তালিকার সম্ভাব্য ভুলত্রুটি দ্রুত সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।