শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫৬ মিনিট আগে
শেরপুরে দুই দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শেরপুরে দুই দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
পাউবো জানায়, বুধবার ভোর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী ও ভোগাই, ঝিনাইগাতীর মহারশী এবং অন্যান্য পাহাড়ি নদী যেমন— ঢেউফা, পাগলা, সোমেশ্বরী ও মৃগী নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঢলের পানিতে নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শেরপুর জেলা শহর থেকে গাজীরখামার হয়ে নালিতাবাড়ী যাওয়ার সড়কটি পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা যেকোনো সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে, ঝিনাইগাতীর মহারশী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসলি জমি ও ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। ভেঙে গেছে বেশ কিছু কাঁচা রাস্তা।
‘ভয়েস অব ঝিনাইগাতী’র সভাপতি জাহিদুল হক মনির জানান, নিম্নাঞ্চলে পানি ঢোকায় মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়া কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির সহ-সভাপতি শাহ জাহান তালুকদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো সময়মতো সংস্কার না হওয়ায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা এখন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, মেঘালয় ও এখানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বাড়ছে। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছি। পাহাড়ি নদীগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর বৃষ্টি না হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু দুপুরের পর হতে বৃষ্টি কমে গেছে তাই আশাবাদী পানি নেমে যাবে।
শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ি নদীগুলোর পানি বেড়েছে। বিশেষ করে মহারশী ও চেল্লাখালী নদীর। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কোনো সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী, পাউবোর লোকজন ও আমাদের জনবল নিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।