আইএমএফের পূর্বাভাস
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে যুদ্ধের চাপ এখনও কাটেনি। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার সেই নেতিবাচক প্রভাবের একটি অংশ সামাল দিচ্ছে। এই দুই বিপরীতমুখী বাস্তবতার মধ্যেই ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির ধারণা, ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
গতকাল বুধবার প্রকাশিত আইএমএফের জুলাই সংস্করণের ইকোনমিক আউটলুক আপডেটে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলের পূর্বাভাসের তুলনায় সামগ্রিক চিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রভাবক হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ায় প্রযুক্তি খাতে নতুন চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন খাতের কার্যক্রমে গতি এসেছে, যা যুদ্ধজনিত ক্ষতির কিছুটা ভারসাম্য তৈরি করছে। আইএমএফের মূল্যায়নে, যুদ্ধ ও প্রযুক্তির প্রভাব সব দেশের জন্য এক রকম নয়। কোনো দেশ সংঘাতের কতটা প্রভাবে রয়েছে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি মূল্যশৃঙ্খলে তাদের অবস্থান কোথায়, তার ওপর অর্থনৈতিক ফলাফল নির্ভর করছে। সংঘাতের বাইরে থাকা জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলো অনুকূল বাণিজ্য পরিস্থিতির সুবিধা পাচ্ছে। একইভাবে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত দেশগুলো, এমনকি তারা জ্বালানি আমদানিকারক হলেও তুলনামূলক শক্তিশালী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বজায় রাখতে সক্ষম হচ্ছে। অন্যদিকে যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল। কিন্তু বৈশ্বিক প্রযুক্তি মূল্যশৃঙ্খলে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত, তারা অর্থনৈতিকভাবে বেশি চাপের মুখে রয়েছে। আইএমএফের মতে, নিম্ন আয়ের অনেক দেশ এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের মধ্যে রয়েছে।
প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতি নিয়েও নতুন উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালের ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে ২০২৭ সালে তা কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এপ্রিলের পূর্বাভাসের তুলনায় মূল্যস্ফীতির এই হিসাব কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, ২০২৪ সালের শুরু থেকে চলা মূল্যস্ফীতি কমার ধারাটি আপাতত থেমে গেছে। আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হলে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা আরও ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং আর্থিক পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারে। তবে জ্বালানি বাজার দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য বাধা কমানো এবং কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি বর্তমান পূর্বাভাসের চেয়েও ভালো হতে পারে। একই সঙ্গে আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও চীন ও ভারতের প্রবৃদ্ধি সামান্য কমতে পারে।