প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৭ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৭ ঘণ্টা আগে
মশিউর রহমান যাদু মিয়া। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক সিনিয়র মন্ত্রী, জাতীয় নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০২তম জন্মবার্ষিকী বৃহস্পতিবার।
বহুমাত্রিক প্রতিভার এই মানুষ ১৯২৪ সালের ৯ জুলাই তৎকালীন রংপুর জেলার (বর্তমান নীলফামারী) ডিমলার খগাখড়িবাড়ীর সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ওসমান গনি ও মা আবিউননেছা।
১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ জাতির এক ক্রান্তিলগ্নে যাদু মিয়া ইন্তেকাল করেন। ৪০ এর দশকের শেষের দিকে তিনি ইয়াং ম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান ছিলেন। তিনি ৫০ এর দশকের শেষ দিকে রংপুর জেলা বোর্ডের কনিষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
৬০ এর দশকের শেষের দিকে মশিউর রহমান যাদু মিয়া ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ও আইয়ুববিরোধী ১১ দফা আন্দোলনে তিনি জাতীয় পরিষদের ভেতরে ও বাইরে সোচ্চার দাবি উপস্থাপন করেন এবং আন্দোলনে মওলানা ভাসানীর আহ্বানে জাতীয় পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
১৯৬৯ সালে লায়েলপুরে কৃষক সম্মেলনে ইয়াহিয়া খানকে গাদ্দার বলার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ১৯৭৭ সালে প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তির সমন্বয়ে প্রথমে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট ও পরে জাতীয়তাবাদী দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। মওলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর ন্যাপের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
যাদু মিয়ার সংগ্রামী জীবন জাতিকে পথ দেখায়: বাংলাদেশ ন্যাপ
জাতীয় নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে বাংলাদেশ ন্যাপের শীর্ষ নেতৃদ্বয় বলেন, গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতার প্রশ্নে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক জীবন মানুষকে চিরদিন অনুপ্রাণিত করে। দেশের সকল ক্রান্তিকালেই তার মতো মেধাবী ও সাহসী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা জাতি উপলব্ধি করে। কারণ, ক্রান্তিকালে যাদু মিয়ার সংগ্রামী জীবন জাতিকে পথ দেখায়।
জাতীয় নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, দেশ-রাষ্ট্র ও সমাজের প্রয়োজনে নতুন আন্দোলনের সূচনা করতে হবে সকলকে। রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ রাজনীতিদিদের হাতে ফিরিয়ে আনতে হবে। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন মুক্ত রাজনীতি ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। মশিউর রহমান যাদু মিয়া সারাজীবন গণতন্ত্র আর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করেছেন। সেই রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
নেতৃদ্বয় বলেন, দেশের রাজনীতি যখন পথ হারিয়ে ফেলে, রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ যখন রাজনীতিবিদদের হাত থেকে দূরে চলে যায়, রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ যখন কোনো অদৃশ্য শক্তির হাতে নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন যাদু মিয়াকে স্মরণ করতে হয় বার বার। ১০২তম জন্মবার্ষিকীতে দলের পক্ষ থেকে তার অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।