সচিব কমিটির বৈঠক
আবু কাওসার
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৮:৪৪ এএম
আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৮:৫২ এএম
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেলে ‘মূল বেতন’ বা বেসিক সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেলে ‘মূল বেতন’ বা বেসিক সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করে তা বাস্তবায়ন করা হবে। এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত সচিব কমিটির আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি এবং উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত কম হারে বেতন বাড়ানোর নীতিগত চিন্তা রয়েছে।
সচিবালয়ে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত সচিব কমিটির সভায় গতকাল সোমবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল দুই ধাপেই কার্যকর করবে বর্তমান সরকার। পহেলা জুলাই থেকে মূল বেতন দেওয়া হবে। পরের অর্থবছরে ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা কার্যকর করা হবে। এ জন্য বাড়তি খরচ হবে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৪ হাজার কোটি টাকা। পহেলা জুলাই থেকে আংশিক বেতনকাঠামো কার্যকর হলেও সরকারি চাকরিজীবীরা বাড়তি বেতন হাতে পেতে দুই মাস সময় লাগবে।
গতকাল সচিবালয়ে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। নবম পে-কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক, কত শতাংশ বেতন বাড়বে এবং এই বেতনকাঠামো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল তার নেতৃত্বে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি যে সুপারিশ করবে সে অনুযায়ী পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে সরকার।
জানা গেছে, সচিব কমিটির সুপারিশ চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠবে। মন্ত্রিসভা চাইলে সুপারিশে পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন করতে পারবে। অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এরপর কার্যকর হবে নতুন বেতনকাঠামো।
উল্লেখ্য, নবম পে-কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০৫ শতাংশ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব পাঠানো হবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতনকাঠামোয় শুধু মূল বেতনই নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও রয়েছে। কয়েকটি ভাতা একীভূত করার পাশাপাশি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন কিছু সুবিধাও যুক্ত হতে পারে। চাকরিজীবীদের অবসরকালীন সুবিধা ও পেনশনকাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত কমিটির এক সদস্য প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “বৈঠকে মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সুবিধাগুলোর বিষয়ে একাধিক এসআরও (বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ) জারি করতে হবে। সেই এসআরও নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে”।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর থেকে প্রতিবছর তাদের মূল বেতনের নির্ধারিত ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও নতুন করে আর পে-স্কেলের ঘোষণা আসেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিশন চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০৫ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া বৈশাখী ভাতার হার বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ এবং যাতায়াত ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও দশম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ব্যাপক সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল।
নিম্ন গ্রেডে বেশি সুবিধা: সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো। সে কারণে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি থাকলেও তা অপেক্ষাকৃত সীমিত হতে পারে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত বেতন বাড়তে পারে ৬০-৭০ শতাংশ, আর দশম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০-১০০ শতাংশ।