প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রাণিচিকিৎসায় মানসম্মত ওষুধ ও আধুনিক সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
প্রাণিচিকিৎসায় মানসম্মত ওষুধ সরবরাহ, আধুনিক চিকিৎসাসেবা এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেছেন, সরকারি হাসপাতালে ব্যবহৃত কোনো ওষুধের মেয়াদ যেন কোনোভাবেই উত্তীর্ণ না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, প্রাণিচিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে মানসম্মত ওষুধ, উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে ব্যবহৃত কোনো ওষুধের মেয়াদ যেন কোনোভাবেই উত্তীর্ণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সম্মেলন কক্ষে কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অবস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সোমবার এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রাণীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতাল দেশের মানুষের অন্যতম আস্থার প্রতিষ্ঠান। জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পোষা প্রাণীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
এ বাস্তবতায় প্রাণিসম্পদ খাতের চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন সময়ের দাবি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাণিচিকিৎসাকে যুগোপযোগী করতে হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পোষা প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের শাখা সম্প্রসারণ ও সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে দেশের সব অঞ্চলের প্রাণী সহজেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পায়, বলেন তিনি।
প্রাণিসম্পদ মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় প্রাণিসম্পদ ঔষধাগার, টক্সিকোলজি ও জুরিসপ্রুডেন্স অনুবিভাগ এবং বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় প্রাণিসম্পদ ঔষধাগারের ক্রয় করা ওষুধ, কেমিক্যাল, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও শৈল্য চিকিৎসার সরঞ্জাম মাঠ পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ সময় ৯০ ধরনের ওষুধ ও কেমিক্যাল এবং ৪০ ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও শৈল্য চিকিৎসার সরঞ্জাম মাঠ পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ দপ্তরের জন্য হস্তান্তর করা হয়।